শহীদুল ইসলাম – এর
কবিতার খেরোখাতা
এলেবেলে ভাবনা
এসব নিয়ে ভাবার সময় কই ভাবুক মহলের।
কোটি আমজনতার বুভুক্ষু ঢাউস উদর পূর্তি করে
মস্তিষ্ক শীতল রাখার উপায় খুজতেই উনারা গলধঘর্ম
যাতে বিক্ষোভে না উলটে যায় ক্ষমতার গদি।
তার জন্য চাই ভরপেট হাইব্রিড চালের মোটা ভাত
আর সাথে টুকরো খানেক পাঙ্গাস-তেলাপিয়া-পোল্ট্রি
অথবা আলুভর্তা, ডাল, আর কিছু শাকসব্জি, ব্যস।
এজন্য সব বিদেশি না হলে যে চলেনা কিছুতেই
কারণ দেশি মানুষের ফলন বেশি হলেও
দেশি ধান, শাকসব্জী, ফলমূল, তেল, ডাল
গরু, ছাগল, হাস, মুরগী, মাছ, গাছ
কোন কিছুরই ফলন বেশি নয়।
স্বাদ? পুষ্টিমান? কিংবা মাটি, পানি, পরিবেশ?
ওসব গোল্লায় যাক সমস্যা নেই কোন
রাসায়নিক সার, বালাইনাশক বিষ
এসবে সমস্যা?
আরে ভাই, জন্মালে মরিতেই হবে একদিন
সুতরাং খেয়ে মরাই ভালো নয়?
বীজ আর খাদ্যের রাজনীতির কথা ভাবছেন?
ভাবছেন একদা খাদ্য হয়ে উঠতে পারে যুদ্ধাস্ত্র?
আরে দূর! এসব আতেল ভাবনা ছাড়েন।
কি বলছেন? যদি কখনো কোন ছলে
বিদেশি বীজ আসা বন্ধ হয় তখন কী হবে?
আরে ভাই, তখনকার কথা তখন ভাবা যাবে
আগেতো আমাদের উদর পূর্তি করি,
নবাগত, আনাগত প্রজন্মের কথা ভাবছেন?
কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কথা?
দূর! আপনি কি জানেন চাল উৎপাদনে
বিশ্বে আমাদের অবস্থান কততম?
আম, কাঠাল আর মাছ উৎপাদনে?
এসব কার অবদান?
সেসব নিয়ে ভাবুন মশাই।
——————————
ময়মনসিংহ। ২৩/১০/২৫
ক্ষমতা ও দখলের রাজনীতি
ক্ষমতা আর দখলের মধ্যে… দারুণ সখ্যতা
যেমন মানিকজোড় সখ্যতা দেখি
উঠতি কিশোরী সখীদের মাঝে।
একবার ক্ষমতার দখল পেলেই—
সবকিছু দখল করা যায়… অবলীলায়!
দখলে আসে খাস জমি, জলাশয়
নামমাত্র মূল্যে মিলে রাজউকের লোভনীয় প্লট…
যেগুলো পাওয়ার কথা ছিলো বঞ্চিত যারা
যারাই এগুলোর সত্যিকার মালিক।
একবার ক্ষমতার দখল পেলেই—
দখল করা যায় নদী-নালা-খাল-বিল-পুকুর,
খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট, রেলের জমি, শ্মশান ঘাট।
বাজার-হাট, টার্মিনাল, অটো-ট্যাম্পু-স্ট্যান্ড,
কিংবা ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর।
একবার ক্ষমতা দখল করা গেলেই—
দখল করা যায় রাষ্ট্রের সবকিছু!
ইউনিয়ন কাউন্সিল থেকে সচিবালয়,
বঙ্গভবন, গণভবন, নিম্ন বা উচ্চ আদালত!
সুপ্রিম কোর্ট থেকে দুদক, পিএসসি,
এটর্নি অফিস থেকে অডিট অফিস—সব!!!
একবার ক্ষমতা দখল করা গেলেই—
দখল করা যায় ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে
ব্যাংক-বীমাসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
এবং দেশের ছোটবড় সব টেন্ডার, ইজারা।
মাটি, আকাশ, বাতাস, সাগর, পাহাড়…
এমনকি আমজনতার মগজ অবধি!
এমন লোভনীয় যে দখলের রাজনীতি—
কে না চায়… এই ক্ষমতার তেলেসমাতি!
————————
ময়মনসিংহ। ১৬.৮.২৫
জীবনের দুর্গম পথে
এই জগত সংসারে
মানবের তরে রয়েছে দু’টি পথ
একটা সত্যের আরেকটা অসত্যের।
হয়তোবা তাও নয় কারণ,
আদতে সত্যটা বড্ড আপেক্ষিক
নির্জলা সত্য খুঁজে মেলা ভার।
এ যেন বহুলকথিত পুলসিরাত!
তুমি কী যুধিষ্ঠির হতে চাও
সেতো কল্পকথার সৃষ্টি
অথচ বাস্তবে তা হতে গেলে
অনুক্ষণ মৃত্যুভয় বুকে নিয়ে
তীক্ষ্ণধার ছুরির উপর পথচলা!
তলদেশে গভীর গহীন অন্ধকার
পদে পদে রক্তাক্ত পদযুগল
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে
কখনো যদি এগুবে এতটুকু
থেমে যাবে, পড়ে যাবে মুখ থুবরে
ভারসাম্য ধরে রেখে
বড্ড কঠিন এই পথচলা।
জীবন এমনি কন্টক শয্যাময়
পদে পদে বিপদ, শংকা আর ভয়।
তাই, বাঁচিতে চাহিনা এই কুৎসিত ভুবনে
সকলের আগে আমি মরিবারে চাই
এই কন্টক বনে এই নরকভূমে
একদন্ড আর বাচার সাধ নাই।
—————————–
ময়মনসিংহ। ২৫.১২.২০১৯
কোন গ্রামে এক সন্ধ্যায়
ইট-কাঠ-পাথরের খাচা ছেড়ে
একদিন এক গ্রামে
একটুখানি প্রকৃতির পরশে
পাখির কুজন ছাড়া নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়
দূর থেকে ভেসে আসে মানুষের কন্ঠস্বর।
এখন তাদের অবকাশ কাল চলছে
তাই চাস্টলে আড্ডাবাজিতে ব্যস্ত সবাই
টেলিভিশনে চলছে নাটক-সিনেমা হরদম
সাথে দেশ-বিদেশের খবর
আর যত রাজা উজির মারার গল্প।
এঁরা সব আমজনতা
অধিকাংশই কৃষক অথবা
কৃষি শ্রমিক, অটো-ভ্যান চালক কিংবা
কৃষকের সহযোগী কোন পেশার মানুষ।
ওঁরা জানেনা, শহুরে কোন ফটকাবাজ এসে
গ্রামে গ্রামে তাদের এজেন্ট তৈরি করে
কৃষকের পকেট কাটার ফন্দি আঁটে।
এই এজেন্টদের গডফাদারূপে আছে
ছোট-বড় তথাকথিত জনপ্রতিনিধি
আছে হোন্ডা-গুন্ডা-অস্ত্র, অঢেল অর্থকড়ি
যাদের পকেটে থাকে ক্ষমতার উৎস পুলিশ-প্রশাসন।
কখনো সুষ্ঠু ভোট হলে ওরাই দেয় বাক্স ভরে
অথবা কখনো ভোট না দিলেও সমস্যা হয়না কোন
ওদের মনভোলানো বয়ান বিশ্বাস করে
ওদের শেখানো মুখরোচক শ্লোগানে
মুখরিত করে তুলে আকাশ বাতাস।
এক বিভ্রান্ত জাতি
আদতে আমরা এক বিভ্রান্ত জাতি
আরও বড় করে দেখলে এই অস্থির দুনিয়ায়
গোটা মানবজাতিটাই আছে চরম বিভ্রান্তির মাঝে।
কারণ মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্যটা আজও অজানা
এই নিয়ে আছে নানাবিধ জল্পনা-কল্পনা
আছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের চিরদ্বন্দ্ব।
গন্তব্য জানা থাকলে, চেনা থাকলে পথ
নিকষ অন্ধকারেও দিব্যি পথ চলা যায়।
কিন্তু গন্তব্য অজানা হলে?
একেকজন একেক পথে হাটবে আর
পথ হারিয়ে হাতরাবে উদ্ভ্রান্তের মত।
শুধু কী তাই,
পথের সন্ধানে যখন সকলে উদগ্রীব
তখন কিছু স্বার্থান্ধ মানুষ
দুষ্ট লোকের দেখানো পথে হাটতে চাইবে
দৃঢ়স্বরে বলবে এটাই সঠিক পথ।
আর দলে দলে স্বার্থান্ধ অবুঝ মানুষ
তাদের অনুসারী হয়ে বিপথে যাবে
মন্ত্রমুগ্ধের মত হেটে যাবে বহুদূর
অত:পর যখন ফিরে পাবে সম্বিত
তখন আর ফিরে আসার পাবেনা সময়।
————————
ময়মনসিংহ। ১৪/১১/২৪
এক নির্মম ছবির গল্প
কী ভয়ংকর নির্মম ছবিটা!
এরচেয়েও শতগুণ নির্মম ছবিও দেখেছি যদিও
যতবার চোখে পড়ে ঝটপট চোখ সরিয়ে নিতে হয়
পর্যাপ্ত আলোতেও ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি
দেখা যায়না কিছুতেই এমন দৃশ্য।
মন ছুটে যায় জুলাই-আগস্টের উত্তাল দিনগুলোতে
কী আবেগ! উদ্বেগ, উৎকন্ঠা নিয়ে
আমরা আধমরা বুড়োরা বদ্ধ ঘরে
ভিপিএন-পথে ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার
কদাচিৎ টিভি স্ক্রিনও চষে বেড়িয়েছি
কী হচ্ছে সেই সত্যটুকু জানতে।
কিন্তু জালিমশাহী আর তদীয় তাবেদার মিডিয়া তখন
মিথ্যের আবরণে সত্য গোপনে তৎপর।
চারিদিকে যত মানুষরূপী অমানুষের ভীরে
কী মানবিক রিক্সাচালক মানুষটা
একটা তাজা প্রাণ বাচাতে ছুটেছে নিরন্তর
হাসপাতাল থেকে হাসপাতালান্তরে
হৃদয়হীন ভীরু স্বার্থপর মানুষের দ্বারে দ্বারে।
কিন্তু না ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ
মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান”।
অথচ বয়ান তৈরি হয়,
ওরা নাকি ‘নাশকতাকারী, দুর্বৃত্ত’!
“পুলিশের গুলিতে কেউ নয়, নিজেরাই মরেছে সব
উল্টো নাকি ওরাই মেরেছে
তিন হাজারের বেশি পুলিশ!
এসব মিথ্যে বয়ানের রাজনীতির বেসাতি সাজায়
ক্ষমতার মধুলোভী স্বার্থান্ধ ধূর্ত এলিটদের দল
আর স্বাধীন দেশে প্রজারূপী আমজনতা
সে খেলার পুতুল হয়ে নাচি অনন্তকাল।
এ খেলার শেষ নেই কিছুতেই?
————————–
ময়মনসিংহ। ২০/১১/২৪
বর্গীমুক্তির বাসনা
এক নির্জলা সত্য এই যে,
যুগে যুগে শাসকরূপে চেপে বসা
শ্রেফ লুটেরা এক দস্যু শ্রেণি
শ্রমে-ঘামে গায়ের রক্ত পানি করে
দিনরাত প্রাণান্তকর পরিশ্রমে
যাকিছু উৎপাদন করেছে কৃষক ও শ্রমিক
তাতে ভাগ বসিয়েছে কুকুরের মত
অমানবিক নিষ্ঠুরতায় লুটে নিয়ে গেছে
অবুঝ শিশুর মুখের গ্রাসটুকুও।
আর সেই হতভাগা কৃষাণী মাতা
অসহায় চিত্তে গেয়ে চলেছে
অভুক্ত শিশুর জন্য ঘুমপাড়ানি গান
“খোকা ঘুমালো, পাড়া জোড়ালো
বর্গী এলো দেশে,
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দিব কিসে!”
স্বাধীনতার তিপ্পান্ন বছর পরেও
অলিগার্ক আর মাফিয়ারূপী নব্য বর্গীদের খপ্পরে দেশ
আজও কি বর্গীমুক্ত হলো এই জনপদ?
মুক্তির বাসনায় কত লড়াই, সংগ্রাম
যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী
বৃথাই গেলো কত প্রাণ, অকাতর রক্তদান
আজও কি তাই হবে চব্বিশে এসে?
—————————–
ময়মনসিংহ। ১১/১২/২০২৪
এক অবিমৃষ্যকারী জাতির ভবিষ্যৎ
এই না হলে আমরা বাঙালি!
এক অসভ্য, ইতর, উশৃংখল জাতি আমরা!
দিবস-রজনী আশায় আশায় থাকি
কোন এক দৈত্য দানব এসে
দেশটাকে স্বর্গ বানিয়ে দিয়ে যাবে
আর আমরা বসে বসে মেওয়া ভোজন করব।
এদেশে দিবানিশি ব্যক্তিস্বার্থের ধান্ধা-ফিকির চলে
দেশের স্বার্থ, দশের স্বার্থ দেখার ফুরসত নাহি মিলে।
বিধাতা বানিয়েছিলেন মানুষ জংলি পশুরূপে
দিয়েছিলেন সভ্য হওয়ার জ্ঞান
সেই জ্ঞানের চর্চায় কত জাতি উন্নত হলো
সভ্য হয়ত হয়নি পুরোটা মানবিকতায়
কিন্তু নিয়ম-নীতি, শৃঙ্খলা, আইনের শাসন
এসব চর্চায় নিজের দেশটাকে গড়েছে বাসযোগ্য করে।
আর আমরা আজও রয়ে গেলাম পশুর স্তরে
দেশটাকে বানিয়ে রেখেছি হাবিয়া দোজখ
যেখানে দখল-দুষণ আর নিয়ম ভাঙার মহোৎসব চলে
তুচ্ছ কারণে মারামারি, হানাহানি আমাদের মজ্জাগত
কুকুরের মত হাউমাউ, ঘেউঘেউ, কামড়াকামড়িতে
সারাক্ষণ মেতে থাকি ভুত হয়ে।
ভালোমন্দ বিচারবুদ্ধিটুকুও লোপ পেয়েছে যেন
এমন এক অবিমৃষ্যকারী জাতির ভবিষ্যৎ
সীমাহীন গহীন আধারে ঘেরা।
————————–
ময়মনসিংহ। ২৫/১২/২৪
ঘুষ
সবাই মোরে ঘৃণাভরে নাম রাখিল ঘুষ,
চুপি চুপি পেতে আমায় রয় না কারো হুশ।
নাম শুনে কি তোমরা সবে করছো মোরে ঘৃণা,
তোমরা হাবা, আমার কদর তাইতো জান না।
কথায় কথায় যারা আমায় ঘৃণায় থুথু ছুড়ে,
সংগোপনে তারাই আবার আমার পিছু ঘুরে।
বড়সড় কর্তারা সব আমায় কদর করে,
পেলে আমায় মনে তাদের আনন্দ না ধরে।
ছোট খাট কর্মচারি তারাও বোকা নয়,
সুযোগ বুঝেই আমায় তারা আপন করে লয়।
কৃষক-শ্রমিক-মুটে-মজুর ওহঃ আর বলো না,
আমি ওদের দু’চোখেতে দেখতে পারি না।
গায়ের লোক? ওদের দেখে আমার লাগে ভয়,
গায়ে আমার অনাদরে স্বাস্থ্য খারাপ হয়।
আমার বাস শহর-নগর অট্টালিকা ’পরে,
শিক্ষিত সব শহরবাসী আমায় যতন করে।
মূর্খের কাছে তাইতো আমি যাইনাকো ভাই কভু
তোমরা তাদের সৎ বলিলেও আমি বলি হবু।
তোমরা তবু আমার নামে দিচ্ছ অপবাদ,
সেই জানে যে পেয়েছে বারেক আমারি আস্বাদ
যতবড় কর্তা বল আদর্শ নীতিবান,
আমায় পেলে আদর্শ সব পালায় পরীস্থান।
ভয়ের রাজ্যে
এক ভয়ের রাজ্যে আমাদের অভিশপ্ত জনম
জন্ম থেকে মুত্যু অবধি
ভয়ের সংস্কৃতির দূর্ভেদ্য জালে ঘেরা
এই সমাজ ও রাষ্ট্রে
রেশমগুটির ভিতর সুপ্ত গুটিপোকার মত
বেচে থাকাই আমাদের জীবন।
ভয়ের সাথেই আমাদের নিত্য বসবাস
“চিত্ত যেথা ভয়শুন্য উচ্চ যেথা শির”
বিশ্বকবির এই অবিনাশী বাণী
শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও
এই পোড়াদেশে তা সত্য নয়।
অবোধ শিশুর দূরন্ত শৈশবের
সহজাত দূরন্তপনা নিয়ন্ত্রণে
আমরা অজান্তে ঢুকিয়ে দেই
অযথা অমূলক সব ভয়
জীন-ভুত-পুলিশ-ডাকাত-ছেলেধরা
কিংবা অবোধ-হিংস্র সর্প,
ব্যঘ্র, ভল্লুক, সিংহ কত কী!
স্রষ্টাকে ভয়, রাজাকে ভয়, শিক্ষাগুরুকে ভয়
এমনকি জনক, জননী, অগ্রজ
যাদের হৃদয়ে বহে প্রেম, প্রীতি,
ভালোবাসা, আদর, স্নেহের ফল্গুধারা
অযথা চাপানো ভয়
তাদেরকেও করে তুলে ভয়ংকর।
পাড়ার পাতি মাস্তান থেকে লুটেরা শাসক
চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, খুনি, শীর্ষ সন্ত্রাসী
ইত্যকার সত্যিকারের ভয়ংকর যারা
ভয় দেখানোই যাদের মোক্ষম অস্ত্র
ভয় দেখিয়েই হাসিল করে কামিয়াবি
রাষ্ট্র ও সমাজের মাথার পরে
জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে
নির্মাণ করে চলে ভয়ের সংস্কৃতি
ভয়ের রাজ্যে তারাই সবচেয়ে ভয়ংকর।
————-
ময়মনসিংহ। ২৩/০৮/২০২৩
ব্যবস্থা বদলের স্বপ্ন
আজব এক ব্যবস্থা চলছে এই দেশে
যুগের পর যুগ জগদ্দল পাথরের বেশে।
ধান্দাবাজি আর লুটপাটে লিপ্ত থেকে সবাই
মুখে মুখে কথামালায় দেশটা বদলাতে চাই।
মিথ্যে বয়ানে ভুলে বঞ্চিত জনতা নামে পথে
রক্ত ঝরায় জীবন বিলায় ফিরে ব্যর্থ মনোরথে।
দেশের এ চিত্রটা সহজেই পাল্টে দেওয়া যায়
শুধু যদি সিস্টেমটাকে একটু বদলানো যায়।
কিন্তু এক আজব জাতি মোরা এই বাঙাল
পশ্চাতে সব খুইয়েও নগদ লাভের কাঙাল ।
সব সমস্যার মূলে আদতে আমরাই
তবু সারাক্ষণ দু’হাতে কপাল চাপরাই
চোখের সামনে অবিরত মারা খাই
তবুও যেন কারও সম্ভিতটুকুও নাই।
সমধানের পথে মোরা হাটতে নারাজ
যে যার বুঝ নিয়ে চলছে বকোয়াজ
যদি বলি চলো এক হয়ে বদলে দেই নিয়তি
শুধু ধান্ধা খুজে কেউ তাতে দেয়না সম্মতি।
চারিদিকে সবার মাঝেই চলছে নাভিশ্বাস
মিথ্যে আর ভণ্ডামিতে ভরা শুধুই অবিশ্বাস
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর
বিশ্বাসের পুঁজিই পারে এসব জঞ্জাল দূর।
দিনবদল কত দূরে
ব্যবস্থা একখান বানাইছেন বেশ
আপনারা যারা চালান দেশ
আর আপনাদেরই দোসর, সহচর
যত দেশি-বিদেশি কোম্পানি
এবং মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ি
সবাই মিলে ছলে বলে কৌশলে
খাসা, বলিহারি, আহা মরি!
ভালইতো মন্ত্র একখান শিখাইছেন
কৃষকেরে নিয়ে যন্তর-মন্তর ঘরে
“পেট ভরে নাও খাই, ফলন বাড়ানো চাই”
কৃষাণ-জেলে মরবে খেটে কাদাজল ঘেটে
রোদ-বৃষ্টি-ঝরে রক্ত পানি করে
ফলাইবে ফসল, ধরবে মৎস্য
নিরন্তর লড়াই করে
অনন্ত সমস্যা আর বৈরি প্রকৃতির সাথে
আর সেই ফসলে পকেট হবে ভারি
কর্পোরেশন আর মধ্যস্বত্বভোগির।
তাদেরই হবে টাকা কড়ি
বাড়ি গাড়ি আর সুরা নারী
মত্ত রবে দিবানিশি বিলাস জলসায়
যেথা পৌছে যায় অবলীলায়
কাটারিভোগ বা কালিজিরা
সেই চাল যা স্বাদে গন্ধে সেরা
রুই, কাতল, পাবদা, চিতল
নামেতেই জিভে আসে জল
আছে যত মুখরোচক খাদ্য খাবার
দেশের প্রান্ত হতে প্রান্তান্তর ছেকে
পৌছে যায় আপনাদেরই খাবার টেবিলে
যার কিছুটা যায় পেটে বাকিটা ডাস্টবিনে।
আর যারা এসব ধরেন বা ফলান
সেসব কৃষক আর জেলের সন্তান
পায়না খেতে দুবেলা, নিয়ে ক্ষুধার জ্বালা
কাটে বিনিদ্র রাত জুটেনা ডালভাত
ভোগে পুষ্টিহীনতায়, মরে অবেলায়।
চলবে আর কতকাল ধরে।
আজব এই ব্যবস্থাখানি
শুধুই ফাঁকা বুলি আর মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনি
শুনি মুক্তির অসার বাণী
বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর, নব্বই
দশকের পর দশক চলে যায়
তৃষিত মন শুধুই প্রশ্ন করে যায়
দিনবদল আর কত দূরে ???
মানবজীবন
নরকতুল্য এই দুনিয়ায় বাঁচতে চাইনা বলে
অবলীলায় নিজেকে হনন করে চলি প্রতিদিন
অযত্নে, অবহেলায়, আলসেমিতে
ক্রমাগত ধেয়ে চলি মহাজীবনের পানে
কারণ, কি হবে বেঁচে থেকে পশুদের মত।
কতটা জরুরী ছিল আমার এই মানব জনম
কিংবা এই জগতের লক্ষ কোটি জীব
কেন যে জনম লয় আবার মরণ হয়
মাঝখানে কত না লড়াই-সংগ্রাম জীবনভর!
এই লড়াইয়ে নিরন্তর যন্ত্রণা আছে
আঘাত আছে প্রত্যাঘাত আছে,
আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে
ব্যাথা বেদনায় কুকড়ে যাওয়া আছে
আর আছে অনুক্ষণ মৃত্যুর হাতছানি।
এতকিছুর মাঝে বেচে থাকার আনন্দও আছে
হঠাৎ আলোর ঝলকানির মত
ক্ষণস্থায়ী লড়াই জেতার আনন্দ-সুখ আছে
সেই সুখের মায়ায়, স্বজনের ভালোবাসায়
বেচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টাও আছে
এইতো মায়াময় মানবজীবন।
মানুষ হওয়া কারে বলে
আমারতো রয়েছেই উলম্ব দেহের গড়ন,
চলি দুই পায়, আছে দুটি হাত,
খাইনাতো লতা-গুল্ম-ঘাস,
আছে হাসি-ক্রন্দন আছে প্রেমময় মন,
আছে বুকভরা আশা, দুচোখে স্বপন
আমি বাধি ঘর লয়ে আপনজন।
জ্ঞান-গরিমা, বুদ্ধিতে আমিই জীবশ্রেষ্ঠ।
একদা অসহায় এই আমারই দর্পে আজ
বিশাল ডাইনোসর থেকে সর্প বিষধর
সিংহ, ব্যঘ্র যত হিংস্র চতুষ্পদ
দিনে দিনে হচ্ছে বিলীন, অন্তরীন।
গোটা জীবজগৎ, ভুমন্ডল আজ
লোটায আমারই যুগল পদতলে।
এ ধরাভূমে আমিই শ্রেষ্ঠ, আমিই সত্য
সর্বত্র আমারই একচ্ছত্র আধিপত্য
জগতের যা কিছু সম্পদ স্থাবর, অস্থাবর
সব আমারই ভোগ্য, আমারই সব
মানুষ হয়েছি আমি গড়েছি নাকি সভ্যতাও।
তবুও তোমরা যে বলো মানুষ হতে
মানুষ হওয়া কারে বলে, কোন পথে।
বড় নির্মম এই বেঁচে থাকা
বড় নির্মম এই বেঁচে থাকা
মনুষ্য রূপ ধরে চতুষ্পদ জন্তুর মত
জীবনভর কাড়াকাড়িতে উদরপূর্তি
যৌন তাড়নায় বংশবিস্তার
অতঃপর একদিন সবকিছু পিছনে ফেলে
নিভৃতে নীরব প্রস্থান
এইতো ক্ষণিকের জীবন।
বড় অসহ্য এ বেঁচে থাকা।
নিজের স্বার্থে গড়া পরাবাস্তবতার ভাগাড়ে
মনুষ্যের পরমধন বিবেকটাকে
আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে একাকার হয়ে যাও
বিবেকহীন হিংস্র পশুর কাতারে।
আর যদি তা না পারো
মানুষ হওয়ার ইচ্ছেটা যদি হয় বড়
তবে অবধারিতভাবেই আসবে নেমে
নির্মম গঞ্জনা যন্ত্রণা সারা জীবনভর
বড্ড নির্মম এভাবে বেঁচে থাকা।
সত্য পথের সন্ধানে
বাম থেকে ডানে
পাতাল থেকে উর্ধ্ব গগণে
আমি ছুটে চলি নিরন্তর
সত্যের সন্ধানে সারা জীবনভর।
সত্য পথের দেখা কভু নাহি পাই
সত্য পথ কি তবে এ ধরায় নাই
সবই কি তবে গোলকধাঁধা
তবে কি বৃথাই সত্য সাধা!
যা সত্য তোমার তরে
আমার তা মনে না ধরে
আমি যা মানি সত্য বলে
সে সত্যে তোমার নাহি চলে।
তাইতো জগতে শত শত মত
তাইতো ছড়িয়ে আছে কত শত পথ
এসব পথ ও মত মিলেনা এক হয়ে
তবুও সত্যের পিছে মিছে মরি ধেয়ে।
————–
ময়মনসিংহ; ৮.৭.২০
কপর্দকশূণ্যতার যন্ত্রণা
কে জানে একজন ভূক্তভোগীর মতো
কপর্দকশূণ্যতার যন্ত্রণা
কতটা তীব্র, কতটা বেদনাময়।
তুমি যদি বিষয়ী আর চতুর না হও
কপর্দক যদি না হয় তোমার ক্ষুধা
তুমি কপর্দকশূণ্য হবে নিশ্চিত
আর তখনি আসবে নেমে
রাজ্যের গঞ্জনা তোমার নিয়নি জুড়ে।
তোমার স্বপ্ন তোমার আশা
নিরাশার চোরাবালিতে তলিয়ে যাবে সব
তুমি যদি ত্যাগী হও, থাকে সুষ্টির নেশা
যতদিন সফল না হবে
লড়াইটা নিতান্তই একেলার রবে
ছেড়ে যাবে সব্বাই, রয়ে যাবে দূরে।
হয়ত তোমার অপার ত্যাগে
যদি মিলে কল্যাণ সার্বজনীন কল্যাণ
তবে হয়ত মিলবে গোটিকয় হাততালি।
———————–
ময়মনসিংহ। ৭.৭.২০
করোনাকালের ছড়া
প্রতি প্রাতে ভাবি যেন
এলো বুঝি শেষ দিন,
প্রতি রাতে স্বস্তি মেলে
ভালোই গেলো একটা দিন।
দিন যায় দিন আসে
আশার কিংবা আশাহীন
রুদ্ধশ্বাসে কাটে সময়
এভাবে আর কতদিন!
এই পৃথিবীর রঙ্গশালা
সাঙ্গ হবেই একদিন,
অত ভেবে কাজ নাই
বাঁচবোনাতো চিরদিন।
কেন এলাম কেন গেলাম
মেলেনা যে হিসাব তার
নিরুত্তর এক প্রশ্ন নিয়েই
বয়ে গেলাম জীবনভার।
—————-
করোনাকাল, ১৮/৬/২০
ময়মনসিংহ।
করোনাকালের উপলব্ধি
করোনায় গৃহবন্দীত্বকালে
কতটুকু বদলালো জীবন
চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ।
বদলালো কি বিশ্ব এতটুকু?
কিংবা এই দেশ, এই সমাজ
জীবনাচার, হিংস্র মনুষ্য বেশভূষা,
সর্বগ্রাসী, সর্বনাসী সব ক্রিয়াকাণ্ড।
শুধু এই দ্বিপদ মনুষ্য প্রজাতি
গিলে খাবে গোটা বিশ্বটাই
তারপর ছুটবে গ্রহান্তরে
ধ্বংস করে পৃথবী নামের গ্রহটারে,
এই মৃত্যুক্ষুধা কমিলো এতটুকু?
নাকি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করেছি শুধু
অবিরত করেছি হাপিত্যেস
কখন খুলবে শপিংমল, উপার্জনশালা।
রাস্তার সুদীর্ঘ জ্যামে ঠাসাঠাসি করে
উর্ধ্বশ্বাসে সেথায় ছুটবো আবার।
কারণ টাকা চাই, অনেক অনেক টাকা।
জীবন মানে ভোগ তাই জীবনমানেই টাকা
এই বাজার অর্থনীতির কালে।
————–
ময়মনসিংহ। ৫/৫/২০
আবোলতাবোল কৃষি ভাবনা
কৃষি ও কৃষক নিয়ে না ভাবলে চলে না?
হ্যা, চলেই তো! দিব্যি চলে যায়!
কারণ জাতে চাষা-ভূষা নেই মুখে ভাষা
মুখ ফুটে তাই টু শব্দটিও করেনা।
নীরবে নিভৃতে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
রাজন্যদের তাই চোখেও পড়েনা।
ভাবনা নেই, কৃষক অনন্যোপায় হয়ে
উৎপাদন যন্ত্রটা রাখবেই সচল।
কারণ তাদের আছে পেটের দায়,
দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার দায়।
ঝড়-ঝঞ্জা-বন্যা-খরা কিংবা করোনা
ওঁদের পথে বাধেনা কিছুই,
সব বাধা যায় মাড়িয়ে অবলীলায়
একাকী নিভৃতে জীর্ণ-ক্লিষ্ট কায়।
কাজেই আমাদের আহারের ভাবনা?
ভয় নেই, অভাব কখখনো হবে না!
তাই আপনারা নিশ্চিন্তে গার্মেন্টস
কিংবা শিল্পখাতগুলো নিয়েই ভাবুন।
কারণ, আপনাদের জিডিপির হিসেবে
কৃষির অবদান শতকে মাত্র পনের কি ষোল।
কাজেই এসব নিয়ে ভাবলে চলে?
শিল্পখাত বাড়ছে তড়তড়িয়ে
আমরাও চলেছি দুর্দম বক্ষ ফুলিয়ে
কৃষিনির্ভরতার দূর্ণাম ঘুচিয়ে অচিরেই
আমরা হবো শিল্পোন্নত এক জাতি।
আসুন আমরা সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে রই
কিছু উন্মাদ কৃষি ও কৃষক নিয়ে বৃথাই আকূল হই।
———————–
ময়মনসিংহ। ২.৪.২০
স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ
স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ
লাল, নীল, সবুজ, গাঢ় কিংবা ফ্যাকাশে।
স্বপ্নেরা রঙ বদলায় আলো-আধারীর খেলায়
বেলা-অবেলায় সময়ের তালে মিলিয়ে তাল।
স্বপ্নেরও আছে জন্ম আছে মৃত্যু,
আছে উত্থান আছে পতন
ঠিক যেন জীবনের মতন।
স্বপ্নও চায় যতন, লালন-পালন।
যতনে বিকশিত ফুল হয়ে ফুটে
আবার অযত্নে ঝরে অকালে।
স্বপ্নেরও আছে রকমফের
বড়, ছোট, লম্বা, খাটো
আলগা কিংবা আটোসাটো,
দীর্ঘস্থায়ী কিংবা ক্ষণস্থায়ী।
এরূপ বিচিত্র স্বপ্ন নিয়েই
বয়ে চলে অবিরাম জীবনের স্রোত
আজানা অসীমের পানে।
———————-
ঝিনাইদহ। ১০.২.১৭
একুশ শতকের গ্রাম
আমাদের ছোট গায়ে ছোট-বড় ঘর,
কেহ রয় কুড়েঘরে কেউ দালানের ভিতর।
মিলেমিলে থাকেনা কেউ বাড়িছে অমিল,
একে অপরের ভয়ে দুয়ারে দেয় খিল।
খেলার বয়সী শিশু খেলিতে না পায়,
প্রভাতে উঠিয়া সব কোচিংয়েতে যায়।
আমাদের গ্রামটি যেন বিমাতা সমান,
সবাই মিলে তিলে তিলে বধিছে তার প্রাণ।
মাঠে মাঠে ইটভাটা, ফসলের বিষে,
কীট-পাখি-প্রজাপতি মারিছে সব পিষে।
খাল-বিল, নদী-নালা শুকিয়ে জলহীন
পাবদা, শোল, টেংরা, পুটি হয়েছে বিলীন।
শাল্লি, বিন্নী, কুমড়ি, বালাম হারিয়েছে কবে
মাঠ ভরেছে হাইব্রিড ধানে বেশি ফলনের লোভে।
আম-জাম-বট নেই, নেই বাঁশঝাড়,
টাকার গাছের লোভে সব কাটিয়া সাবাড়।
বিজলীতে গেছে দূর অমাবস্যার রাতি
এখন আর যায়না দেখা জোনাকির বাতি।
আজো সকালে সোনার রবি পূব দিকেই উঠে,
নাহি ডাকে পাখি আর নাহি ফুল ফুটে।
…………
ঝিনাইদহ। ২৪.০১.২০১৭
এলোমেলো জীবন
জীবনটা কেনো এমন এলোমেলো।
কালবোশেখি সাইক্লোন কিংবা
সামান্য বাউড়ি বাতাসেই নূয়ে পড়ে।
সুন্দর পরিপাটী জীবন কি হয় কখনো?
হাসি-আনন্দে ভরা শুধুই আলোকময়?
চারপাশে দেখি কত রঙীন জীবন
ঝাঁঝালো জমকালো নয়নভোলা
বাহারি আলোর ঝাড়বাতিটার মত।
যা দেখা যায় সেটাই কী সত্য সবসময়?
ভিতর আর বাহির কি সতত এক হয়?
কন্টকময়, সর্পিল, বন্ধুর জীবনের পথ
এই জীবনের তরেই আমরা বাঁচি আমরণ
কত লড়াই কত সংগ্রাম করে আলিঙ্গন
এইতো জীবন, বড্ড এলোমেলো।
———–
ঝিনাইদহ; ৩০/৬/১৮
নিত্য দূর্ভাবনায় বসবাস
বহুরূপি জীবন-আকাশ
জীবনটা যেন আকাশের মত
দুচোখের সীমানাজুড়ে অসীম শুণ্যতা
ক্ষণে ক্ষণে বদলায় রঙ, রূপ।
গোধুলি বেলায় স্বর্ণালী মেঘ-সন্ধায়
রাঙা আভায় ঝলকানো চারিধার
জুড়ায় নয়ন নেচে উঠে মন।
কখনো সুনীল জমিনে
থরে থরে সাজানো তাঁরার বাগান
কখনো বা বসে হেথা চাঁদেরহাট
ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা।
কখনো ছেয়ে যায় কাজলকালো মেঘে
ঝড়-ঝঞ্জা, কালবোশেখি তছনছ করে সব
একে একে নিভে যায় সব আলো
নিকস কালো আধারে ঘিরে ধরে চারিধার।
এমনি বহুরূপি জীবন-আকাশ
সেই আকাশেই মানবের চির পথচলা।
———————–
ঢাকা, ২৪.৫.২০১৮
দুঃসময়ের ভাবনা
মাঝে মাঝে যেন পাই মরণের আলিঙ্গণ
মনে হয় এই বুঝি সব শেষ।
হতাশার শকুনেরা ঘিরে ধরে চারিধার।
কিছুই হলোনা করা যা কিছু করার ছিলো
কিছুই হলোনা বলা যা কিছু বলার ছিলো।
চাইনি তো আমি খুব বেশি কিছু
সবাই যা চায়, ছুটে নিরন্তর যার পিছু
চাইনি তো কভু তেমন কিছু।
শুধু দুচোখ জুড়ে স্বপ্ন ছিলো
রেখে দিয়ে যাব খানিক পদচিহ্ন
পৃথিবীর বুকে, যাতে অনাদিকালের মানুষ
হয়তো একটু কৌতূহল ভরে জিজ্ঞাসিবে
এ কাহার পথচলা, কে সেই পথিক!
গুরুর কথা শিরোধার্য মেনে
এই কণ্টকাকীর্ণ ধরণীর পথ হতে
দু’একটি কাঁটা দূর করে দিয়ে ছুটি নেব
এর চেয়ে বেশি কিছু চাইনিতো কভু।
তবু ক্ষমা করো প্রভু ভুল যদি করে থাকি কিছু
যদি এই চাওয়া হয় খুব বেশি কিছু।
পাই কি বা না পাই কিছু, এই জীবনরথে
সবাই যে যাবে, যেতে হবে একই পথে।
—————
১২.৫.১৮
হাসান ক্লিনিক, ঝিনাইদহ
উৎসবের ধর্ম
বাংলা নববর্ষ কি আমাদের?
হিন্দুর না মুসলিমের?
মঙ্গল শোভাযাত্রা কার উৎসব?
এই বাদানুবাদ চলছে অবিরাম।
বিভক্ত জাতির বিভক্তির দেয়াল
দৃঢ় থেকে হচ্ছে দৃঢ়তর।
বাড়ছে হিংসা-বিদ্বেষ, জঙ্গীপনা।
মনে নিয়ে ভয়-ভীতি অনুক্ষণ
কিসের উৎসব তবে!
বারো মাসে তের পার্বণের দেশে
কোন উৎসবটা মুসলমানের?
কোনটা হিন্দুর, বৌদ্ধের বা খৃস্টানের?
কোনটা নিখাদ ধর্মীয় কোনটা বা সকলের?
বহমান কালের ধারায়
উৎসবে মিশেছে ধর্মাচার
উৎসব আর ধর্ম মিলেমিশে একাকার
হয়ে গেছে প্রশ্নহীনভাবে।
উৎসবের কি ধর্ম আছে কোন?
নিরেট আনন্দ দান ছাড়া?
আমাদের বহু পরিচয়, বহু বিশ্বাস
মিলেমিশে যায় উৎসবে
কেন আজ এত প্রশ্ন তবে?
চৈত্র-সংক্রান্তি, নববর্ষ,
পৌষ-পার্বণ, নবান্ন
জারি-সারি-ভাটিয়ালি, পালাপার্বণ
নাচগান, যাত্রাপালা কিংবা
হালের ব্যান্ড সঙ্গীত, নাটক, চলচ্চিত্র
কোনটা মুসলমানের জন্য?
কোনটা হিন্দুর, কোনটা বা অন্যের?
তবে হ্যা, প্রশ্ন যখন উঠেছে আজ
উৎসবের রূপ-রং-সাজ
ধর্মীয় প্রভাব মুক্ত হয়ে
সার্বজনীন হয়ে উঠুক
নির্মল আনন্দের উৎস হউক
যা এ অস্থির, বিষময় সমাজে
সুস্থ্যতার সাথে বেঁচে থাকার জন্য
বড্ড বেশি প্রয়োজন।
————————
ঝিনাইদহ।। ০১ বৈশাখ ১৪২৫
কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৮
ভয়াবহ বেকারত্বের এই দেশে
জরুরী কোটা ব্যবস্থার সংস্কার।
আরও জরুরী কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
কিন্তু কিভাবে হবে তা?
সরকারী চাকুরীর পদ ক’টা
কোটি কোটি বেকারের তুলনায়?
কিংবা যে সরকারি চাকরীর নামের
সোনার হরিণের পিছে ছুটে চলা
কিংবা বয়স সীমা ৩৫ বছর করার দাবী
কতটা লাভ তাতে।
আর কে না জানে সরকারী চাকুরীর
লোভনীয় সব মুলোর কথা
কাজ না করেও আয়, উপরি আয়ের কথা।
সরকারি সেবার মান সে কার না জানা?
ভয়াবহ বেকারত্বের এই দেশে
জরুরী কোটা ব্যবস্থার সংস্কার।
আরও জরুরী কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
কিন্তু কিভাবে হবে তা?
শিল্পায়ন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ
কতটা কী হয়েছে আর কতটাই বা হবে?
কৃষি, গার্মেন্টস আর শ্রমিক রপ্তানীর আয়
এই তো সার দেশের অর্থনীতির?
কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি কই
ঘরে ঘরে চাকরীর নিশ্চয়তা কই
ক্ষমতায় যারা কিংবা ক্ষমতা প্রত্যাশী
কি তাদের কর্মসূচি কর্মসংস্থান সৃষ্টির।
সেগুলো জানাটাও জরুরী অনেক।
——————————–
ঝিনাইদহ: ১০.০৪.২০১৮
বিমূর্ত হে স্বাধীনতা
স্বাধীনতা তুমি
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামের
কুচকাওয়াজ শুধু নয়,
ঘুমপাড়ানি কথামালা নয়, গলাবাজি নয়
স্বপ্নহীনতা আর অজ্ঞানতার আধার নয়
বৈষম্যহীনতার কাগুজে চেতনা নয়,
ক্ষুধা নয়, দারিদ্র নয়
অশিক্ষা, কুশিক্ষা নয়
স্বার্থের তরে কুকুরের কাড়াকাড়ি নয়,
তুমি নতুন প্রজন্মের জন্য
বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার
সুতীব্র অঙ্গীকার নিয়ে এসো।
তুমি এমন স্বদেশ দাও
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির।
কে দিবে কার কাছে চাই!
তুমি যে বিমূর্ত হে স্বাধীনতা!
যায়না ধরা যায়না যে ছোঁয়া।
————————–
ঝিনাইদহ: ২৬.৩.২০১৮
ঘুম দিবসের পদ্য
বাহঃ ঘুম দিবসও আছে তাহলে!
দারুণ তো!
জীবনের যত ক্লান্তি-শ্রান্তি
দুঃখ-ব্যথা-গ্লানি যত
যত আছে অশান্তি-অসুখ
যাতনা-যন্ত্রণা আছে যত
নিমেশেই মুছে যায়
যার শান্তিময় ক্রোড়ে
সে হচ্ছে ঘুম স্বস্তিময়।
বেদনার খা খা রুদ্দুরমাখা
ক্লান্ত দিবস শেষে
অস্ত গেলে দিনমনি
ক্লান্ত দুটি আঁখিপাতে
নেমে আসে ঘুম
জগতজুড়ে মহাশাস্তিময়।
—————-
ঝিনাইদহ: ১৫.৩.২০১৮
নববর্ষ ২০১৮
হাতের পরশ পেয়েই ঘুরতে থাকা
এই ঘড়িটার মতই যদি সব বদলে যেত
বদলে দেওয়া যেত সব,
যদি এভাবেই নিমেশে মুছে যেত
দুঃখ ব্যথা গ্লানি যত আছে জীবনময়।
যদি সহসা হাজির হত এক নতুন ভোর
রক্তিম আভায় নতুন সুর্যটা
যদি দূর করে দিত সকল অন্ধকার
যদি অবিনাশি আলোয় উঠত ভরে
এক অনন্ত আলোকিত দিবস।
যার প্রত্যাশায় অনন্তকাল
উল্টিয়ে যাই ক্যালেন্ডারের পাতা।
কিন্তু তাই কি হয় কখনো
স্বপ্ন আর মিছে আশাই সার
বেচে থাকার ঠুনকো প্রেরণা।
তবুও সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!
শুভ নববর্ষ!
—————————
ঝিনাইদহ: ০১.০১.২০১৮
স্বপ্ন বহুরূপী
স্বপ্নের আছে অনেক রং
লাল, নীল, সবুজ, হলুদ
কোনটা ঝাঁঝালো কোনটা পেলব।
স্বপ্নের আছে অনেক রূপ
মুহুর্মূহু বদলে যায় গিরগিটির মত
যায় না ধরা যায় না ছোয়া।
স্বপ্নের আছে ভাঙাগড়া
বহতা নদীর পাড়ের মতন
সহসা ভাঙে আবার
তিলে তিলে গড়ে উঠে বালিয়াড়ি পাড়।
স্বপ্নের আছে জীবন আছে মৃত্যু
আছে উত্থান আছে পতন।
স্বপ্নের আছে তাড়িয়ে বেড়ানোর
বন্ধুর পথ মাড়িয়ে বেড়ানোর
অশেষ শক্তি অমিত বল।
আমরা যেন স্বপ্নের খেলার পুতুল!
————————-
ঝিনাইদহ: ২৯.১২.২০১৭
নির্ঘুম এক রাতের গল্প
গত রাতে ঘুমুতে পারিনি একটুও
বিছানায় শুয়ে ছটফট করেছি শুধু
যন্ত্রণার শকুনেরা ছিড়ে খেয়েছে হৃদপিন্ডটা
আমি নিষ্প্রাণ পাষাণের মত
নীরবে সয়েছি সব যন্ত্রণা নীলকন্ঠ হয়ে।
অথচ কেউ কিছুই জানতে পারেনি
না কোন মানুষ কিংবা নিশাচর
ফুল, পাখি, বৃক্ষরাজি, কেউ।
হয়ত সুখের খেয়ায় ভেসে স্বর্গ ছুয়েছে সবাই
প্রকৃতির সকল কর্মই চলেছে যথারীতি
সারানিশি আকাশে চড়েছে পূর্ণচাঁদ
নক্ষত্রের মেলাও বসেছে যথারীতি
প্রাত্যহিক নিয়মেই এসেছে আরেকটি ভোর
ভোরের পাখিরা করেছে কুজন
পূর্বাকাশে উঠেছে রাংগা রবি যথা নিয়মেই
কোথাও ছিলোনা এতটুকু বিষাদের ছাপ।
শুধু আমার দু’চোখ জুড়ে রাজ্যের ক্লান্তি।
“ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু”
—————-
ঝিনাইদহ। ১৭.১১.২০১৭
ধর্মের নামে মরণখেলা চলবে কত আর
মর্মন্তুদ এই মরণখেলা চলবে কত কাল
আধার কেটে আসবে কবে রক্তিম সকাল!
ধর্মের নামে এই হানাহানি বন্ধ হবে কবে
হিন্দু নয়, মুসলিম নয় শুধু মানুষই রবে।
হস্ত-পদ-কর্ণ-নাসিকা কিংবা শোণিত ধারা
সবারইতো দেখি একই রূপ, জন্ম-মৃত্যু-জ্বরা।
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, মান কি অপমান
আবেগ কিংবা অনুভূতিতেও নেই যে ব্যবধান।
সবাই মানি শ্রষ্টাও যে এক হউক না ভিন্ন নাম
কে জানে নিশ্চিত কি যে হবে মানবের পরিনাম।
তবে এ কিষের বিবাদ, কে শেখালো তা কি জানি
কেন যে শেখালো তাই বা জানি ক’জন কতখানি
তবে কেন এই মরণখেলা চলবে আর কত কাল
এই আধার কেটে আসবে কবে স্বপ্নিল সকাল।
—————————
ঝিনাইদহ। ১১.১১.২০১৭
আবোলতাবোল ভাবনা
অদ্ভূত সময়
সময়, বড়ই অদ্ভূত রহস্যময়
কখনো নির্মম কখনো মধুময়।
কি যে রহস্য লুকিয়ে থাকে
সময়ের ভাজে ভাজে
কিছুই যায়না জানা আগেভাগে!
কিছু স্বপ্ন, কিছু আশা
কিছু অনুমান, কিছু প্রত্যাশা
তাই নিয়েই দিবানিশি
মনের গহীনে সময়ের ক্যানভাসে
আকা স্বপ্নের আলপনা।
কি হবে আগামীকাল,
পরশু কিংবা তারপর
কে জানে খবর কে জানে পূর্বাপর
আমরা যে সময়ের ক্রীড়ানক
কখনো মধুর কখনো ভয়ানক
যেমনই হউক সে খেলা
সয়ে সয়েই যায় যে বেলা
সময়ের অতল গহবরে।
ঝিনাইদহ। ০৯.১১.২০১৭
স্বপ্ন-ব্যারাম
আমার আছে স্বপ্ন দেখার ব্যারাম
এই ব্যারামটা যখন মস্তিষ্কে জেঁকে বসে
তখন দেহের ব্যারাম সব উবে গিয়ে
আমি পাই পথচলার অমিত বল।
আর তখনি চারপাশরে সব সুস্থ্য(?)
বাস্তবরে মানুষেরা জুড়ে দেয় আহাজারি
বলে পাগল আমি, সব পাগলামি
পথ রুদ্ধ করে দাড়ায় সকলে
যার যার পথে করে টানাটানি
আর তখন অসহায় বিভ্রান্ত আমি
থেমে যাই, মুখ থুবরে পড়ি।
তথনই শরীর নামক মহাশয়ের
উপর দিয়ে চলা সব অত্যাচার
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় বেরিয়ে পড়ে একে একে
আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি আর থমকে দাড়াই
থেমে যায় পথচলা।
তখন গুরু ঠাকুরের “একলা চলোরে” আবাহন
অদ্ভুত আধার ঘেরা মৃত্যু উপত্যকায়
আমার বেঁচে থাকার একমাত্র প্রেরণা হয়ে
আমার পথ চলার শক্তি জোগায়
আর তখনি গুরুর উপদেশ মাথায় নিয়ে
জ্বালিয়েনিয়ে “বুকের পাজর”
আমি জ্বলি একেলা প্রাণপণ।
——————
ঝনিাইদহ;
পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই
কেনো জন্ম আমার এই ধরাভূমে
কেনো এ জীবনের আয়োজন?
উত্তরহীন এই প্রশ্নটা অনুক্ষণ কিলবিল করে
মস্তিষ্কের অদৃশ্য কোঠর।
প্রকৃতির অকৃপন দানে
তিলে তিলে বেড়েছি আমি
সেবেছি বায়ু, রবির কর
ক্ষুধায় পেয়েছি অন্ন, তৃঞ্চায় জল
রজনীর শান্তিময় ক্রোড়ে
ক্লান্ত শ্রান্ত আমি পেয়েছি শীতল আশ্রয়।
যৌবনা তটিনীসম অবিরাম
বয়ে চলেছে সময়ের শ্রোত
অদূর ভবিষ্যতে একদিন
এ মঞ্জিলের ক্ষণিক বিশ্রাম শেষে
সুদূর অজানায় দিব পাড়ি
কিন্তু এই কি জন্মসার?
এই সবুজ ঘাসের পরে
এ দু’টি ক্লান্ত পায়ে হেটেছি কত
অথচ তার কোন পদচহ্নি
থাকবেনা কভু তাই কি হয়?
মনে সাধ এই সবুজ গালিচার পরে
আমার পদচহ্নিটুকু রেখে যেতে চাই
এই পথ এই মাঠ এই বনছায়
আমার পরে যারা করবে বিচরণ
এ ধরনীর বুকে আমার আগমণচিহ্নটুকু
তাদের তরে রেখে যেতে চাই।
কিন্তু কিভাবে? উত্তর নেই জানা
এ যে বড়ই দুরূহ, দুঃসাধ্য অতি
এর জন্য চাই জগদ্বীশ্বরের কৃপা
হে রাজাধিরাজ
পাব কি আমি কভু তোমারি বর।
——————–
বাকৃবি। ২৯/১/১৯৯৪
মনে রেখো এ অধম সন্তানেরে
বসুমতি জননী আমার
তোমার বিশাল বিস্তৃত ক্রোড়ে
ক্ষুদ্র কীটসম জন্মেছিনু আমি
তোমার কোটি সন্তান মাঝে
এক অধম সন্তান রূপে।
তোমার অপার স্নেহে
তোমার উদার স্তন্য পিয়ে
জঞ্জালসম বেড়েছিনু আমি
বিনিময়ে দিতে পারিনি কিছুই।
তোমার সে অশষে ঋণ
কিঞ্চিত শোধিব সে সাধ্যতো নেই
হে জননী আমার
আমায় ক্ষমিও তুমি
মনে রখেো এ অধম সন্তানেরে।
——————–
বাকৃবি। ১৭/১/১৯৯৪
অশান্ত হৃদয়
নিদ্রা
নিদ্রা তুমি মহা মায়াময়
তুমি মানবের চিরসখা পরম হিতৈষিনী
আর কি আছে তোমার মত
এমন ইষ্টকারী মানবের
তুমি মধুর পরশে মুহুর্তেই
মুছে দাও সব ব্যথা যন্ত্রণা
লাঘব কর সকল দুঃখ-কষ্ট
এ সংসার যাতনায় অতিষ্ট মানব
তোমার কোলেতেই লভে
প্রশান্ত শীতল আশ্রয়
তুমি অতি মঙ্গলময়
তুমি জীবনভারে ক্লান্ত মানবের
দেখাও নবজীবনের স্বপ্ন
তুমি জাগাও মানব হৃদয়ে
নতুন করে বাচার আশা
তুমি মহা কল্যাণময়
তোমার কল্যাণেই এখনও মানব
এই শ্বাসরুদ্ধকর যান্ত্রিকতায়
আজও দিব্যি টিকে আছে
নিদ্রা তুমি অনন্তকাল
এ দুঃখী মানবের
অবিরাম শান্তির নীর ঢালো।
——————–
বাকৃবি। ১৩/১/১৯৯৪
হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল
হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল
নিঝুম সন্ধ্যা ঢেকেছে আজ
কৃষ্ণ চাদোয়ায় জীবন আমার।
স্বপ্নীল প্রভাত হারিয়েছে সেই কবে
তারপর হারালো রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর
অবশেষে হারিয়েছে সোনালি বিকেল
আজ আমি চির আধারের সহচর।
গোধূলির আলো আধারি খেলায়
এ অবোধ আমি ছিলেম বিভোর
কখন যে নিষ্ঠুর আধার এসে
গ্রাসিলো রাহুসম আমার চারিধার।
আধারের বুকে এখন আমি
হাতরে ফিরি প্রাণপণ এতটুকু শিখা
পথহারা পথিকসম খুজি পথের দিশা।
——————
বাকৃবি। ৫/১/১৯৯৪
আমি সেথায় যেতে চাই
ভাল্লাগেনা আর এই অশান্ত জনপদ
আমি সেথায় যেতে চাই
যেখানে নেই কোন কোলাহল
কলকব্জার বিকট নিনাদ খটর খট, খটর খট
যন্ত্রদানবের ভো ভো আওয়াজ
আর বিভৎস কালো ধোঁয়া
সীমাহীন দখল, দুষণ, অনাচার।
ভাল্লাগেনা এই নিরস যান্ত্রিক সভ্যতা।
আমি সেথায় যেতে চাই
যেখানে স্বার্থের পিছনে নিরন্তর ছুটাছুটি নেই
লোভ নেই লালসা নেই
ক্রোধ নেই, জিঘাংসা নেই
যখন বারুদের উগ্র গন্ধ নেই
অশান্তির তপ্ত হাওয়া নেই
ইট-পাথরের নির্মম দেয়াল নেই।
আমি সেথায় যেতে চাই
যেখানে অর্থ নেই, যেখানে বিত্ত নেই
অর্থ-বিত্তের পিছে নিরন্তর ছুটোছুটি নেই
যেখানে কান্না নেই, যেখানে অশ্রু নেই
যেখানে সন্ত্রাস নাই, যেখানে রক্তঝরা নেই
যেখানে খাদ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা নেই
খাদ্য নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীর রাহাজানি নেই
যখোনে শোষক নইে, শোষতিরে আহাজারি নইে
যেখানে মিথ্যে আর ভন্ডামি নেই।
আমি সেথায় যেতে চাই
যেথায় উর্ধ্বে উদার নীলাকাশ
নিম্নে ঘণঘাসে ঢাকা শ্যামল জমিন
নির্জন নিস্তব্ধতায় ভেসে আসে
দূর বনানী থেকে পাখির কুজন
গোধূলির আলোয় ভরা সারাক্ষণ
দখিন হাওয়া বয়ে আনে
মাতাল করা কুসুম সুভাস
আমি সেথায় যেতে চাই চিরতরে
যেন আর ফিরে না আসি আর।
————————-
ময়মনসিংহ। ১১/১/১৯৯৪
অগ্নিগর্ভ হৃদয় আমার
এ বক্ষ আমার যেন সুপ্ত আগ্নেয়গিরি
বাইরে থেকে মনে হয় প্রশান্ত ঘুমে মগ্ন
কেউতো দেখেনা ভেতরটা তার
কি দুঃসহ দহনে দগ্ধ হচ্ছে অবিরাম
হৃদপিন্ডটা জ্বালানি হয়ে জ্বলছে অনুক্ষণ
কেউতো দেখেনা সে অদৃশ্য অগ্নিশিখা।
এমনি করেই একদিন
হয়ত টুটবে তন্দ্রা তার
সেদিন দেখবে সবাই এ বুকের জ্বালামখে
হৃৎপন্ডিটা লাভা হয়ে ছিটকে যাবে চতুর্দিক
ছোপ ছোপ রক্তপিন্ড
হয়ত অজান্তে বেরুবে সেদিন একফোটা দীর্ঘশ্বাস
এটুকুই পাওনা আমার মানুষের কাছে।
——————
বাকৃবি। ৭/১/১৯৯৪
চাওয়া-পাওয়া
চাওয়ার সূত্রে কভু চলেনা পাওয়া
প্রায়শই চলে সে উল্টোরথে
তবুও চাওয়ার নেই শেষ
প্রাণপণে পাওয়া’র দ্বারে মাথা কুড়ে মরা
পাওয়া’র কি আসে যায় তাতে
তার চিরন্তন অজানা পথেই আসবে সে
যখন হবে মর্জি তার।
চাওয়া আর পাওয়া
এ দুয়ের মাঝে বিস্তর ব্যবধান।
ভাগ্যদেবীর আশির্বাদে কারও বেলা
হয়ত মিলেও যায় কোন মোহনায়
তাই দেখে হতভাগ্যের মরুতৃষা জাগে
নিরন্তর ছুটে চলে মরীচিকার পিছু
অবশেষে ভাঙবে যবে ভুল
তখন সম্বল শুধু হৃদয়ছেড়া দীর্ঘশ্বাস
ভাগ্যদেবীর বর বড়ই দুর্লভ।
——————
বাকৃবি। ৯/১/১৯৯৪











