আমাদের কথা
লক্ষ্য/উদ্দেশ্য
‘প্রকৃতি ফুডে’র লক্ষ্য হল খাদ্য উৎপাদনকারী এবং খাদ্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি কার্যকর ও স্থায়িত্বশীল সেতুবন্ধন রচনা করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহে মধ্যস্থতা করার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ত্বরান্বিতকরণ এবং একটি সুস্থ ও সুখী জাতি গঠনে অবদান রাখা।
Prakriti food aims at bridging between food producers and the food users to mediate the supply of safe and nutritious food for enhancing food security as well as contributing to building a nation with good health & happiness.
যে জন্য এই উদ্যোগ
বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক সার, বালাইনাশক, প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম রঞ্জক, ইত্যাদির যথেচ্ছা ব্যবহারে গড়ে উঠা বর্তমান খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার ফলস্বরূপ আজ বিপন্ন মানবস্বাস্থ্য, বিপন্ন প্রাণ-প্রকৃতি এবং বিপন্ন ধরণী।
সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকাই আজ দুষ্কর হয়ে উঠেছে। হু হু করে বাড়ছে রোগব্যাধি, বাড়ছে স্বাস্থ্যব্যয়, বাড়ছে দুর্ভোগ, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি। অসুস্থ্য শরীর নিয়ে বেড়ে উঠছে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম। সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য যা আজ বাংলাদেশে দুর্লভ।
আমরা বিশ্বাস করি যে বর্তমান খাদ্য ব্যবস্থা যেভাবে মানুষ এবং মাটির জন্য বিষাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর হচ্ছে এবং যেভাবে প্রকৃতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে তা যদি রক্ষা করা না যায় তবে দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রজাতি হিসেবে মানুষের অস্তিস্তও বিপন্ন হয়ে পড়বে।
যে জন্য সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন
আমরা যারা নিরাপদ খাদ্য চাই তারা সবাই মিলে উদ্যোগী হলেই কেবল নিরাপদ খাদ্য সহজলভ্য করা সম্ভব। কারণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা কৃষকের দায় নয়। তাছাড়া, এদেশে নিরাপদ খাদ্যের তেমন কোন নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠেনি। এজন্য আমাদেরকে কৃষকদের দ্বারস্থ হতে হবে, তাদেরকে উৎসাহিত করতে হবে এবং কৃষকের মাঠ থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত গড়ে তুলতে হবে এক নিরাপদ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা। একাজে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাই অত্যন্ত জরুরী।
আপনার খাদ্যপণ্যকে নিরাপদ করতে হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে আপনার টেবিলে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ, যেমনঃ উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, প্যাকেজিং, পরিবহন ইত্যাদি নিরাপদ হওয়া জরুরী। তাই জৈব বা নিরাপদ খাদ্যপণ্য নির্ধারিত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কৃষক দিয়ে পণ্য উৎপাদন করিয়ে নিয়ে তা মৌসুমে সংগ্রহ করে সারা বছরের জন্য মজুদ করতে হয়। কাজেই বর্তমানে আমাদের পণ্য সীমিত হবে এবং সীমিত সংখ্যক গ্রাহককে তা সারাবছর নির্ধারিত মূল্যে চাহিদামত যোগান দেওয়া সম্ভব হবে। সুতরাং আমাদের পণ্য পেতে হলে সদস্যপদ লাভ করা অতীব প্রয়োজনীয়। সদস্য হলে আমাদের সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা করা যেমন সহজ হবে তেমনি ভোক্তা হিসেবে আপনারা এবং কৃষক উভয় পক্ষই উপকৃত হবেন।
প্রকৃতি ফুডের সদস্য হউন
উপরোক্ত কথাগুলো যদি উপলব্ধি করে থাকেন তবে নিশ্চয় বুঝে থাকবেন যে কারও ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে এই জটিল সমস্যার সমাধান হবেনা। আসুন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিজে সুস্থ্য জীবন গড়ি এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করি। আমাদের উদ্যোগ নিছক কোন ব্যবসায়ি উদ্যোগ নয়। ব্যবসা করতে হলে এমন কঠিন বিষয়কে বেছে নেওয়ার কোন যুক্তি নেই। কাজেই আমাদের এই উদ্যোগে সকলের আন্তরিক অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা কাম্য। প্রকৃতির সদস্য হউন এবং সাথে থাকুন। প্রকৃতিকে আমাদের সকলের প্রতিষ্ঠান ভাবুন।
সদস্য হওয়ার প্রাথমিক নিয়মাবলীঃ
১. নির্ধারিত সদস্য ফি দিয়ে সদস্যপদ লাভ করা যা সদস্যপদ বাতিল বা প্রত্যাহৃত হলে ফেরতযোগ্য।
২. প্রত্যেক পণ্যের বার্ষিক চাহিদা আগাম অবহিত করা।
৩. চাহিদামত নিয়মিত পণ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা।
৪. পণ্যের মান-নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা।
৪. শর্তগুলো কালক্রমে বাস্তবতার নিরীখে সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।
প্রকৃতি ফুডের সদস্য হউন। নির্ধারিত দামে সারাবছর নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্য গ্রহণ করুন।