Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
করোনায় গৃহবন্দীত্বকালে
কতটুকু বদলালো জীবন
চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ।
বদলালো কি বিশ্ব এতটুকু?
কিংবা এই দেশ, এই সমাজ
জীবনাচার, হিংস্র মনুষ্য বেশভূষা,
সর্বগ্রাসী, সর্বনাসী সব ক্রিয়াকাণ্ড।
শুধু এই দ্বিপদ মনুষ্য প্রজাতি
গিলে খাবে গোটা বিশ্বটাই
তারপর ছুটবে গ্রহান্তরে
ধ্বংস করে পৃথবী নামের গ্রহটারে,
এই মৃত্যুক্ষুধা কমিলো এতটুকু?
নাকি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করেছি শুধু
অবিরত করেছি হাপিত্যেস
কখন খুলবে শপিংমল, উপার্জনশালা।
রাস্তার সুদীর্ঘ জ্যামে ঠাসাঠাসি করে
উর্ধ্বশ্বাসে সেথায় ছুটবো আবার।
কারণ টাকা চাই, অনেক অনেক টাকা।
জীবন মানে ভোগ তাই জীবনমানেই টাকা
এই বাজার অর্থনীতির কালে।
————–
ময়মনসিংহ। ৫/৫/২০
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
কৃষি ও কৃষক নিয়ে না ভাবলে চলে না?
হ্যা, চলেই তো! দিব্যি চলে যায়!
কারণ জাতে চাষা-ভূষা নেই মুখে ভাষা
মুখ ফুটে তাই টু শব্দটিও করেনা।
নীরবে নিভৃতে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ
রাজন্যদের তাই চোখেও পড়েনা।
ভাবনা নেই, কৃষক অনন্যোপায় হয়ে
উৎপাদন যন্ত্রটা রাখবেই সচল।
কারণ তাদের আছে পেটের দায়,
দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার দায়।
ঝড়-ঝঞ্জা-বন্যা-খরা কিংবা করোনা
ওঁদের পথে বাধেনা কিছুই,
সব বাধা যায় মাড়িয়ে অবলীলায়
একাকী নিভৃতে জীর্ণ-ক্লিষ্ট কায়।
কাজেই আমাদের আহারের ভাবনা?
ভয় নেই, অভাব কখখনো হবে না!
তাই আপনারা নিশ্চিন্তে গার্মেন্টস
কিংবা শিল্পখাতগুলো নিয়েই ভাবুন।
কারণ, আপনাদের জিডিপির হিসেবে
কৃষির অবদান শতকে মাত্র পনের কি ষোল।
কাজেই এসব নিয়ে ভাবলে চলে?
শিল্পখাত বাড়ছে তড়তড়িয়ে
আমরাও চলেছি দুর্দম বক্ষ ফুলিয়ে
কৃষিনির্ভরতার দূর্ণাম ঘুচিয়ে অচিরেই
আমরা হবো শিল্পোন্নত এক জাতি।
আসুন আমরা সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে রই
কিছু উন্মাদ কৃষি ও কৃষক নিয়ে বৃথাই আকূল হই।
———————–
ময়মনসিংহ। ২.৪.২০
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
স্বপ্নেরও আছে অনেক রঙ
লাল, নীল, সবুজ, গাঢ় কিংবা ফ্যাকাশে।
স্বপ্নেরা রঙ বদলায় আলো-আধারীর খেলায়
বেলা-অবেলায় সময়ের তালে মিলিয়ে তাল।
স্বপ্নেরও আছে জন্ম আছে মৃত্যু,
আছে উত্থান আছে পতন
ঠিক যেন জীবনের মতন।
স্বপ্নও চায় যতন, লালন-পালন।
যতনে বিকশিত ফুল হয়ে ফুটে
আবার অযত্নে ঝরে অকালে।
স্বপ্নেরও আছে রকমফের
বড়, ছোট, লম্বা, খাটো
আলগা কিংবা আটোসাটো,
দীর্ঘস্থায়ী কিংবা ক্ষণস্থায়ী।
এরূপ বিচিত্র স্বপ্ন নিয়েই
বয়ে চলে অবিরাম জীবনের স্রোত
আজানা অসীমের পানে।
———————-
ঝিনাইদহ। ১০.২.১৭
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
আমাদের ছোট গায়ে ছোট-বড় ঘর,
কেহ রয় কুড়েঘরে কেউ দালানের ভিতর।
মিলেমিলে থাকেনা কেউ বাড়িছে অমিল,
একে অপরের ভয়ে দুয়ারে দেয় খিল।
খেলার বয়সী শিশু খেলিতে না পায়,
প্রভাতে উঠিয়া সব কোচিংয়েতে যায়।
আমাদের গ্রামটি যেন বিমাতা সমান,
সবাই মিলে তিলে তিলে বধিছে তার প্রাণ।
মাঠে মাঠে ইটভাটা, ফসলের বিষে,
কীট-পাখি-প্রজাপতি মারিছে সব পিষে।
খাল-বিল, নদী-নালা শুকিয়ে জলহীন
পাবদা, শোল, টেংরা, পুটি হয়েছে বিলীন।
শাল্লি, বিন্নী, কুমড়ি, বালাম হারিয়েছে কবে
মাঠ ভরেছে হাইব্রিড ধানে বেশি ফলনের লোভে।
আম-জাম-বট নেই, নেই বাঁশঝাড়,
টাকার গাছের লোভে সব কাটিয়া সাবাড়।
বিজলীতে গেছে দূর অমাবস্যার রাতি
এখন আর যায়না দেখা জোনাকির বাতি।
আজো সকালে সোনার রবি পূব দিকেই উঠে,
নাহি ডাকে পাখি আর নাহি ফুল ফুটে।
…………
ঝিনাইদহ। ২৪.০১.২০১৭
Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
জীবনটা কেনো এমন এলোমেলো।
কালবোশেখি সাইক্লোন কিংবা
সামান্য বাউড়ি বাতাসেই নূয়ে পড়ে।
সুন্দর পরিপাটী জীবন কি হয় কখনো?
হাসি-আনন্দে ভরা শুধুই আলোকময়?
চারপাশে দেখি কত রঙীন জীবন
ঝাঁঝালো জমকালো নয়নভোলা
বাহারি আলোর ঝাড়বাতিটার মত।
যা দেখা যায় সেটাই কী সত্য সবসময়?
ভিতর আর বাহির কি সতত এক হয়?
কন্টকময়, সর্পিল, বন্ধুর জীবনের পথ
এই জীবনের তরেই আমরা বাঁচি আমরণ
কত লড়াই কত সংগ্রাম করে আলিঙ্গন
এইতো জীবন, বড্ড এলোমেলো।
———–
ঝিনাইদহ; ৩০/৬/১৮