বিমূর্ত হে স্বাধীনতা

 

স্বাধীনতা তুমি
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামের
কুচকাওয়াজ শুধু নয়,
ঘুমপাড়ানি কথামালা নয়, গলাবাজি নয়
স্বপ্নহীনতা আর অজ্ঞানতার আধার নয়
বৈষম্যহীনতার কাগুজে চেতনা নয়,

ক্ষুধা নয়, দারিদ্র নয়
অশিক্ষা, কুশিক্ষা নয়
স্বার্থের তরে কুকুরের কাড়াকাড়ি নয়,
তুমি নতুন প্রজন্মের জন্য
বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার
সুতীব্র অঙ্গীকার নিয়ে এসো।

তুমি এমন স্বদেশ দাও
চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির।

কে দিবে কার কাছে চাই!
তুমি যে বিমূর্ত হে স্বাধীনতা!
যায়না ধরা যায়না যে ছোঁয়া।

————————–

ঝিনাইদহ: ২৬.৩.২০১৮

ঘুম দিবসের পদ্য

 

বাহঃ ঘুম দিবসও আছে তাহলে!

দারুণ তো!

 

জীবনের যত ক্লান্তি-শ্রান্তি

দুঃখ-ব্যথা-গ্লানি যত

যত আছে অশান্তি-অসুখ

যাতনা-যন্ত্রণা আছে যত

নিমেশেই মুছে যায়

যার শান্তিময় ক্রোড়ে

সে হচ্ছে ঘুম স্বস্তিময়।

 

বেদনার খা খা রুদ্দুরমাখা

ক্লান্ত দিবস শেষে

অস্ত গেলে দিনমনি

ক্লান্ত দুটি আঁখিপাতে

নেমে আসে ঘুম

জগতজুড়ে মহাশাস্তিময়।
—————-
ঝিনাইদহ: ১৫.৩.২০১৮

নববর্ষ ২০১৮

 

হাতের পরশ পেয়েই ঘুরতে থাকা

এই ঘড়িটার মতই যদি সব বদলে যেত

বদলে দেওয়া যেত সব,

যদি এভাবেই নিমেশে মুছে যেত

দুঃখ ব্যথা গ্লানি যত আছে জীবনময়।

 

যদি সহসা হাজির হত এক নতুন ভোর

রক্তিম আভায় নতুন সুর্যটা

যদি দূর করে দিত সকল অন্ধকার

যদি অবিনাশি আলোয় উঠত ভরে

এক অনন্ত আলোকিত দিবস।

 

যার প্রত্যাশায় অনন্তকাল

উল্টিয়ে যাই ক্যালেন্ডারের পাতা।

কিন্তু তাই কি হয় কখনো

স্বপ্ন আর মিছে আশাই সার

বেচে থাকার ঠুনকো প্রেরণা।

তবুও সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!
শুভ নববর্ষ!

—————————

ঝিনাইদহ: ০১.০১.২০১৮

স্বপ্ন বহুরূপী

 

স্বপ্নের আছে অনেক রং

লাল, নীল, সবুজ, হলুদ

কোনটা ঝাঁঝালো কোনটা পেলব।

 

স্বপ্নের আছে অনেক রূপ

মুহুর্মূহু বদলে যায় গিরগিটির মত

যায় না ধরা যায় না ছোয়া।

 

স্বপ্নের আছে ভাঙাগড়া

বহতা নদীর পাড়ের মতন

সহসা ভাঙে আবার

তিলে তিলে গড়ে উঠে বালিয়াড়ি পাড়।

 

স্বপ্নের আছে জীবন আছে মৃত্যু

আছে উত্থান আছে পতন।

 

স্বপ্নের আছে তাড়িয়ে বেড়ানোর

বন্ধুর পথ মাড়িয়ে বেড়ানোর

অশেষ শক্তি অমিত বল।

আমরা যেন স্বপ্নের খেলার পুতুল!
————————-
ঝিনাইদহ: ২৯.১২.২০১৭

নির্ঘুম এক রাতের গল্প

 

গত রাতে ঘুমুতে পারিনি একটুও

বিছানায় শুয়ে ছটফট করেছি শুধু

যন্ত্রণার শকুনেরা ছিড়ে খেয়েছে হৃদপিন্ডটা

আমি নিষ্প্রাণ পাষাণের মত

নীরবে সয়েছি সব যন্ত্রণা নীলকন্ঠ হয়ে।

 

অথচ কেউ কিছুই জানতে পারেনি

না কোন মানুষ কিংবা নিশাচর

ফুল, পাখি, বৃক্ষরাজি, কেউ।

 

হয়ত সুখের খেয়ায় ভেসে স্বর্গ ছুয়েছে সবাই

প্রকৃতির সকল কর্মই চলেছে যথারীতি

সারানিশি আকাশে চড়েছে পূর্ণচাঁদ

নক্ষত্রের মেলাও বসেছে যথারীতি

প্রাত্যহিক নিয়মেই এসেছে আরেকটি ভোর

ভোরের পাখিরা করেছে কুজন

পূর্বাকাশে উঠেছে রাংগা রবি যথা নিয়মেই

কোথাও ছিলোনা এতটুকু বিষাদের ছাপ।

 

শুধু আমার দু’চোখ জুড়ে রাজ্যের ক্লান্তি।

“ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু”
—————-
ঝিনাইদহ। ১৭.১১.২০১৭