ধর্মের নামে মরণখেলা চলবে কত আর

মর্মন্তুদ এই মরণখেলা চলবে কত কাল

আধার কেটে আসবে কবে রক্তিম সকাল!

ধর্মের নামে এই হানাহানি বন্ধ হবে কবে

হিন্দু নয়, মুসলিম নয় শুধু মানুষই রবে।

হস্ত-পদ-কর্ণ-নাসিকা কিংবা শোণিত ধারা

সবারইতো দেখি একই রূপ, জন্ম-মৃত্যু-জ্বরা।

সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, মান কি অপমান

আবেগ কিংবা অনুভূতিতেও নেই যে ব্যবধান।

সবাই মানি শ্রষ্টাও যে এক হউক না ভিন্ন নাম

কে জানে নিশ্চিত কি যে হবে মানবের পরিনাম।

তবে এ কিষের বিবাদ, কে শেখালো তা কি জানি

কেন যে শেখালো তাই বা জানি ক’জন কতখানি

তবে কেন এই মরণখেলা চলবে আর কত কাল

এই আধার কেটে আসবে কবে স্বপ্নিল সকাল।
—————————
ঝিনাইদহ। ১১.১১.২০১৭

আবোলতাবোল ভাবনা

 

কত যে কথা বলার আছে

কত যে কাজ করার আছে।

কথায় কাজে নিত্য নিশি

যে সুর বাজে বুকের মাঝে

যে ভাবনা খেলিয়া বেড়ায়

মস্তিষ্কের গোপন কোঠায়

কেমন করে বলিব সেসব

করিব সেসব কেমন করে!

হাজারো বাধার পাহাড়

অন্তরে বাহিরে সর্বদিকে।

কি যে করি তাই ভেবে মরি

আবোলতাবোল।

—————————

ঝিনাইদহ। ১০.১১.২০১৭

অদ্ভূত সময়

 

সময়, বড়ই অদ্ভূত রহস্যময়

কখনো নির্মম কখনো মধুময়।

কি যে রহস্য লুকিয়ে থাকে

সময়ের ভাজে ভাজে

কিছুই যায়না জানা আগেভাগে!

 

কিছু স্বপ্ন, কিছু আশা

কিছু অনুমান, কিছু প্রত্যাশা

তাই নিয়েই দিবানিশি

মনের গহীনে সময়ের ক্যানভাসে

আকা স্বপ্নের আলপনা।

 

কি হবে আগামীকাল,

পরশু কিংবা তারপর

কে জানে খবর কে জানে পূর্বাপর

আমরা যে সময়ের ক্রীড়ানক

কখনো মধুর কখনো ভয়ানক

যেমনই হউক সে খেলা

সয়ে সয়েই যায় যে বেলা

সময়ের অতল গহবরে।

ঝিনাইদহ। ০৯.১১.২০১৭

স্বপ্ন-ব্যারাম

 

আমার আছে স্বপ্ন দেখার ব্যারাম

এই ব্যারামটা যখন মস্তিষ্কে জেঁকে বসে

তখন দেহের ব্যারাম সব উবে গিয়ে

আমি পাই পথচলার অমিত বল।

 

আর তখনি চারপাশরে সব সুস্থ্য(?)

বাস্তবরে মানুষেরা জুড়ে দেয় আহাজারি

বলে পাগল আমি, সব পাগলামি

পথ রুদ্ধ করে দাড়ায় সকলে

যার যার পথে করে টানাটানি

আর তখন অসহায় বিভ্রান্ত আমি

থেমে যাই, মুখ থুবরে পড়ি।

 

তথনই শরীর নামক মহাশয়ের

উপর দিয়ে চলা সব অত্যাচার

ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় বেরিয়ে পড়ে একে একে

আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি আর থমকে দাড়াই

থেমে যায় পথচলা।

 

তখন গুরু ঠাকুরের “একলা চলোরে” আবাহন

অদ্ভুত আধার ঘেরা মৃত্যু উপত্যকায়

আমার বেঁচে থাকার একমাত্র প্রেরণা হয়ে

আমার পথ চলার শক্তি জোগায়

আর তখনি গুরুর উপদেশ মাথায় নিয়ে

জ্বালিয়েনিয়ে “বুকের পাজর”

আমি জ্বলি একেলা প্রাণপণ।

——————

ঝনিাইদহ;

পদচিহ্নটুকু রেখে যেতে চাই

 

কেনো জন্ম আমার এই ধরাভূমে

কেনো এ জীবনের আয়োজন?

উত্তরহীন এই প্রশ্নটা অনুক্ষণ কিলবিল করে

মস্তিষ্কের অদৃশ্য কোঠর।

 

প্রকৃতির অকৃপন দানে

তিলে তিলে বেড়েছি আমি

সেবেছি বায়ু, রবির কর

ক্ষুধায় পেয়েছি অন্ন, তৃঞ্চায় জল

রজনীর শান্তিময় ক্রোড়ে

ক্লান্ত শ্রান্ত আমি পেয়েছি শীতল আশ্রয়।

 

যৌবনা তটিনীসম অবিরাম

বয়ে চলেছে সময়ের শ্রোত

অদূর ভবিষ্যতে একদিন

এ মঞ্জিলের ক্ষণিক বিশ্রাম শেষে

সুদূর অজানায় দিব পাড়ি

কিন্তু এই কি জন্মসার?

 

এই সবুজ ঘাসের পরে

এ দু’টি ক্লান্ত পায়ে হেটেছি কত

অথচ তার কোন পদচহ্নি

থাকবেনা কভু তাই কি হয়?

 

মনে সাধ এই সবুজ গালিচার পরে

আমার পদচহ্নিটুকু রেখে যেতে চাই

এই পথ এই মাঠ এই বনছায়

আমার পরে যারা করবে বিচরণ

এ ধরনীর বুকে আমার আগমণচিহ্নটুকু

তাদের তরে রেখে যেতে চাই।

 

কিন্তু কিভাবে? উত্তর নেই জানা

এ যে বড়ই দুরূহ, দুঃসাধ্য অতি

এর জন্য চাই জগদ্বীশ্বরের কৃপা

হে রাজাধিরাজ

পাব কি আমি কভু তোমারি বর।

——————–

বাকৃবি। ২৯/১/১৯৯৪