Aug 7, 2025 | কবিতার খাতা
বসুমতি জননী আমার
তোমার বিশাল বিস্তৃত ক্রোড়ে
ক্ষুদ্র কীটসম জন্মেছিনু আমি
তোমার কোটি সন্তান মাঝে
এক অধম সন্তান রূপে।
তোমার অপার স্নেহে
তোমার উদার স্তন্য পিয়ে
জঞ্জালসম বেড়েছিনু আমি
বিনিময়ে দিতে পারিনি কিছুই।
তোমার সে অশষে ঋণ
কিঞ্চিত শোধিব সে সাধ্যতো নেই
হে জননী আমার
আমায় ক্ষমিও তুমি
মনে রখেো এ অধম সন্তানেরে।
——————–
বাকৃবি। ১৭/১/১৯৯৪
Aug 7, 2025 | কবিতার খাতা
শান্ত হও অশান্ত মন মোর
শান্ত হও এবার
আমায় নিয়ে খেলবে কত আর
এমন নির্দয় নিষ্ঠুর খেলা।
এই জগতের খেলাঘরে
আমি যে তোমারি খেলার পুতুল হয়ে
নেমে গেলাম কত সকাল সাঝে
পুরেনি তবুও তোমারি সাধ ।
আমি যে আর সইতে নারি
বড়ই ক্লান্ত শ্রান্ত আমি আজ
হে রঙ্গরাজ
এবার আমায় দাও ছুটি।
——————–
বাকৃবি। ১৫/১/১৯৯৪
Aug 7, 2025 | কবিতার খাতা
নিদ্রা তুমি মহা মায়াময়
তুমি মানবের চিরসখা পরম হিতৈষিনী
আর কি আছে তোমার মত
এমন ইষ্টকারী মানবের
তুমি মধুর পরশে মুহুর্তেই
মুছে দাও সব ব্যথা যন্ত্রণা
লাঘব কর সকল দুঃখ-কষ্ট
এ সংসার যাতনায় অতিষ্ট মানব
তোমার কোলেতেই লভে
প্রশান্ত শীতল আশ্রয়
তুমি অতি মঙ্গলময়
তুমি জীবনভারে ক্লান্ত মানবের
দেখাও নবজীবনের স্বপ্ন
তুমি জাগাও মানব হৃদয়ে
নতুন করে বাচার আশা
তুমি মহা কল্যাণময়
তোমার কল্যাণেই এখনও মানব
এই শ্বাসরুদ্ধকর যান্ত্রিকতায়
আজও দিব্যি টিকে আছে
নিদ্রা তুমি অনন্তকাল
এ দুঃখী মানবের
অবিরাম শান্তির নীর ঢালো।
——————–
বাকৃবি। ১৩/১/১৯৯৪
Aug 5, 2025 | কবিতার খাতা
হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল
নিঝুম সন্ধ্যা ঢেকেছে আজ
কৃষ্ণ চাদোয়ায় জীবন আমার।
স্বপ্নীল প্রভাত হারিয়েছে সেই কবে
তারপর হারালো রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর
অবশেষে হারিয়েছে সোনালি বিকেল
আজ আমি চির আধারের সহচর।
গোধূলির আলো আধারি খেলায়
এ অবোধ আমি ছিলেম বিভোর
কখন যে নিষ্ঠুর আধার এসে
গ্রাসিলো রাহুসম আমার চারিধার।
আধারের বুকে এখন আমি
হাতরে ফিরি প্রাণপণ এতটুকু শিখা
পথহারা পথিকসম খুজি পথের দিশা।
——————
বাকৃবি। ৫/১/১৯৯৪
Aug 5, 2025 | কবিতার খাতা
ভাল্লাগেনা আর এই অশান্ত জনপদ
আমি সেথায় যেতে চাই
যেখানে নেই কোন কোলাহল
কলকব্জার বিকট নিনাদ খটর খট, খটর খট
যন্ত্রদানবের ভো ভো আওয়াজ
আর বিভৎস কালো ধোঁয়া
সীমাহীন দখল, দুষণ, অনাচার।
ভাল্লাগেনা এই নিরস যান্ত্রিক সভ্যতা।
আমি সেথায় যেতে চাই
যেখানে স্বার্থের পিছনে নিরন্তর ছুটাছুটি নেই
লোভ নেই লালসা নেই
ক্রোধ নেই, জিঘাংসা নেই
যখন বারুদের উগ্র গন্ধ নেই
অশান্তির তপ্ত হাওয়া নেই
ইট-পাথরের নির্মম দেয়াল নেই।
আমি সেথায় যেতে চাই
যেখানে অর্থ নেই, যেখানে বিত্ত নেই
অর্থ-বিত্তের পিছে নিরন্তর ছুটোছুটি নেই
যেখানে কান্না নেই, যেখানে অশ্রু নেই
যেখানে সন্ত্রাস নাই, যেখানে রক্তঝরা নেই
যেখানে খাদ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা নেই
খাদ্য নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীর রাহাজানি নেই
যখোনে শোষক নইে, শোষতিরে আহাজারি নইে
যেখানে মিথ্যে আর ভন্ডামি নেই।
আমি সেথায় যেতে চাই
যেথায় উর্ধ্বে উদার নীলাকাশ
নিম্নে ঘণঘাসে ঢাকা শ্যামল জমিন
নির্জন নিস্তব্ধতায় ভেসে আসে
দূর বনানী থেকে পাখির কুজন
গোধূলির আলোয় ভরা সারাক্ষণ
দখিন হাওয়া বয়ে আনে
মাতাল করা কুসুম সুভাস
আমি সেথায় যেতে চাই চিরতরে
যেন আর ফিরে না আসি আর।
————————-
ময়মনসিংহ। ১১/১/১৯৯৪