মানবজীবন

 

নরকতুল্য এই দুনিয়ায় বাঁচতে চাইনা বলে

অবলীলায় নিজেকে হনন করে চলি প্রতিদিন

অযত্নে, অবহেলায়, আলসেমিতে

ক্রমাগত ধেয়ে চলি মহাজীবনের পানে

কারণ, কি হবে বেঁচে থেকে পশুদের মত।

 

কতটা জরুরী ছিল আমার এই মানব জনম

কিংবা এই জগতের লক্ষ কোটি জীব

কেন যে জনম লয় আবার মরণ হয়

মাঝখানে কত না লড়াই-সংগ্রাম জীবনভর!

 

এই লড়াইয়ে নিরন্তর যন্ত্রণা আছে

আঘাত আছে প্রত্যাঘাত আছে,

আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে

ব্যাথা বেদনায় কুকড়ে যাওয়া আছে

আর আছে অনুক্ষণ মৃত্যুর হাতছানি।

 

এতকিছুর মাঝে বেচে থাকার আনন্দও আছে

হঠাৎ আলোর ঝলকানির মত

ক্ষণস্থায়ী লড়াই জেতার আনন্দ-সুখ আছে

সেই সুখের মায়ায়, স্বজনের ভালোবাসায়

বেচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টাও আছে

এইতো মায়াময় মানবজীবন।

মানুষ হওয়া কারে বলে

 

আমারতো রয়েছেই উলম্ব দেহের গড়ন,

চলি দুই পায়, আছে দুটি হাত,

খাইনাতো লতা-গুল্ম-ঘাস,

আছে হাসি-ক্রন্দন আছে প্রেমময় মন,

আছে বুকভরা আশা, দুচোখে স্বপন

আমি বাধি ঘর লয়ে আপনজন।

 

জ্ঞান-গরিমা, বুদ্ধিতে আমিই জীবশ্রেষ্ঠ।

একদা অসহায় এই আমারই দর্পে আজ

বিশাল ডাইনোসর থেকে সর্প বিষধর

সিংহ, ব্যঘ্র যত হিংস্র চতুষ্পদ

দিনে দিনে হচ্ছে বিলীন, অন্তরীন।

গোটা জীবজগৎ, ভুমন্ডল আজ

লোটায আমারই যুগল পদতলে।

 

এ ধরাভূমে আমিই শ্রেষ্ঠ, আমিই সত্য

সর্বত্র আমারই একচ্ছত্র আধিপত্য

জগতের যা কিছু সম্পদ স্থাবর, অস্থাবর

সব আমারই ভোগ্য, আমারই সব

মানুষ হয়েছি আমি গড়েছি নাকি সভ্যতাও।

 

তবুও তোমরা যে বলো মানুষ হতে

মানুষ হওয়া কারে বলে, কোন পথে।

বড় নির্মম এই বেঁচে থাকা

 

বড় নির্মম এই বেঁচে থাকা

মনুষ্য রূপ ধরে চতুষ্পদ জন্তুর মত

জীবনভর কাড়াকাড়িতে উদরপূর্তি

যৌন তাড়নায় বংশবিস্তার

অতঃপর একদিন সবকিছু পিছনে ফেলে

নিভৃতে নীরব প্রস্থান

এইতো ক্ষণিকের জীবন।

 

বড় অসহ্য এ বেঁচে থাকা।

নিজের স্বার্থে গড়া পরাবাস্তবতার ভাগাড়ে

মনুষ্যের পরমধন বিবেকটাকে

আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে একাকার হয়ে যাও

বিবেকহীন হিংস্র পশুর কাতারে।

 

আর যদি তা না পারো

মানুষ হওয়ার ইচ্ছেটা যদি হয় বড়

তবে অবধারিতভাবেই আসবে নেমে

নির্মম গঞ্জনা যন্ত্রণা সারা জীবনভর

বড্ড নির্মম এভাবে বেঁচে থাকা।

সত্য পথের সন্ধানে

 

বাম থেকে ডানে

পাতাল থেকে উর্ধ্ব গগণে

আমি ছুটে চলি নিরন্তর

সত্যের সন্ধানে সারা জীবনভর।

 

সত্য পথের দেখা কভু নাহি পাই

সত্য পথ কি তবে এ ধরায় নাই

সবই কি তবে গোলকধাঁধা

তবে কি বৃথাই সত্য সাধা!

 

যা সত্য তোমার তরে

আমার তা মনে না ধরে

আমি যা মানি সত্য বলে

সে সত্যে তোমার নাহি চলে।

 

তাইতো জগতে শত শত মত

তাইতো ছড়িয়ে আছে কত শত পথ

এসব পথ ও মত মিলেনা এক হয়ে

তবুও সত্যের পিছে মিছে মরি ধেয়ে।

————–

ময়মনসিংহ; ৮.৭.২০

কপর্দকশূণ্যতার যন্ত্রণা

 

কে জানে একজন ভূক্তভোগীর মতো

কপর্দকশূণ্যতার যন্ত্রণা

কতটা তীব্র, কতটা বেদনাময়।

 

তুমি যদি বিষয়ী আর চতুর না হও

কপর্দক যদি না হয় তোমার ক্ষুধা

তুমি কপর্দকশূণ্য হবে নিশ্চিত

আর তখনি আসবে নেমে

রাজ্যের গঞ্জনা তোমার নিয়নি জুড়ে।

তোমার স্বপ্ন তোমার আশা

নিরাশার চোরাবালিতে তলিয়ে যাবে সব

 

তুমি যদি ত্যাগী হও, থাকে সুষ্টির নেশা

যতদিন সফল না হবে

লড়াইটা নিতান্তই একেলার রবে

ছেড়ে যাবে সব্বাই, রয়ে যাবে দূরে।

 

হয়ত তোমার অপার ত্যাগে

যদি মিলে কল্যাণ সার্বজনীন কল্যাণ

তবে হয়ত মিলবে গোটিকয় হাততালি।

———————–

ময়মনসিংহ। ৭.৭.২০

করোনাকালের ছড়া

 

প্রতি প্রাতে ভাবি যেন

এলো বুঝি শেষ দিন,

প্রতি রাতে স্বস্তি মেলে

ভালোই গেলো একটা দিন।

 

দিন যায় দিন আসে

আশার কিংবা আশাহীন

রুদ্ধশ্বাসে কাটে সময়

এভাবে আর কতদিন!

 

এই পৃথিবীর রঙ্গশালা

সাঙ্গ হবেই একদিন,

অত ভেবে কাজ নাই

বাঁচবোনাতো চিরদিন।

 

কেন এলাম কেন গেলাম

মেলেনা যে হিসাব তার

নিরুত্তর এক প্রশ্ন নিয়েই

বয়ে গেলাম জীবনভার।

—————-

করোনাকাল, ১৮/৬/২০

ময়মনসিংহ।