নববর্ষ ২০১৮

 

হাতের পরশ পেয়েই ঘুরতে থাকা

এই ঘড়িটার মতই যদি সব বদলে যেত

বদলে দেওয়া যেত সব,

যদি এভাবেই নিমেশে মুছে যেত

দুঃখ ব্যথা গ্লানি যত আছে জীবনময়।

 

যদি সহসা হাজির হত এক নতুন ভোর

রক্তিম আভায় নতুন সুর্যটা

যদি দূর করে দিত সকল অন্ধকার

যদি অবিনাশি আলোয় উঠত ভরে

এক অনন্ত আলোকিত দিবস।

 

যার প্রত্যাশায় অনন্তকাল

উল্টিয়ে যাই ক্যালেন্ডারের পাতা।

কিন্তু তাই কি হয় কখনো

স্বপ্ন আর মিছে আশাই সার

বেচে থাকার ঠুনকো প্রেরণা।

তবুও সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা!
শুভ নববর্ষ!

—————————

ঝিনাইদহ: ০১.০১.২০১৮

স্বপ্ন বহুরূপী

 

স্বপ্নের আছে অনেক রং

লাল, নীল, সবুজ, হলুদ

কোনটা ঝাঁঝালো কোনটা পেলব।

 

স্বপ্নের আছে অনেক রূপ

মুহুর্মূহু বদলে যায় গিরগিটির মত

যায় না ধরা যায় না ছোয়া।

 

স্বপ্নের আছে ভাঙাগড়া

বহতা নদীর পাড়ের মতন

সহসা ভাঙে আবার

তিলে তিলে গড়ে উঠে বালিয়াড়ি পাড়।

 

স্বপ্নের আছে জীবন আছে মৃত্যু

আছে উত্থান আছে পতন।

 

স্বপ্নের আছে তাড়িয়ে বেড়ানোর

বন্ধুর পথ মাড়িয়ে বেড়ানোর

অশেষ শক্তি অমিত বল।

আমরা যেন স্বপ্নের খেলার পুতুল!
————————-
ঝিনাইদহ: ২৯.১২.২০১৭

নির্ঘুম এক রাতের গল্প

 

গত রাতে ঘুমুতে পারিনি একটুও

বিছানায় শুয়ে ছটফট করেছি শুধু

যন্ত্রণার শকুনেরা ছিড়ে খেয়েছে হৃদপিন্ডটা

আমি নিষ্প্রাণ পাষাণের মত

নীরবে সয়েছি সব যন্ত্রণা নীলকন্ঠ হয়ে।

 

অথচ কেউ কিছুই জানতে পারেনি

না কোন মানুষ কিংবা নিশাচর

ফুল, পাখি, বৃক্ষরাজি, কেউ।

 

হয়ত সুখের খেয়ায় ভেসে স্বর্গ ছুয়েছে সবাই

প্রকৃতির সকল কর্মই চলেছে যথারীতি

সারানিশি আকাশে চড়েছে পূর্ণচাঁদ

নক্ষত্রের মেলাও বসেছে যথারীতি

প্রাত্যহিক নিয়মেই এসেছে আরেকটি ভোর

ভোরের পাখিরা করেছে কুজন

পূর্বাকাশে উঠেছে রাংগা রবি যথা নিয়মেই

কোথাও ছিলোনা এতটুকু বিষাদের ছাপ।

 

শুধু আমার দু’চোখ জুড়ে রাজ্যের ক্লান্তি।

“ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু”
—————-
ঝিনাইদহ। ১৭.১১.২০১৭

ধর্মের নামে মরণখেলা চলবে কত আর

মর্মন্তুদ এই মরণখেলা চলবে কত কাল

আধার কেটে আসবে কবে রক্তিম সকাল!

ধর্মের নামে এই হানাহানি বন্ধ হবে কবে

হিন্দু নয়, মুসলিম নয় শুধু মানুষই রবে।

হস্ত-পদ-কর্ণ-নাসিকা কিংবা শোণিত ধারা

সবারইতো দেখি একই রূপ, জন্ম-মৃত্যু-জ্বরা।

সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, মান কি অপমান

আবেগ কিংবা অনুভূতিতেও নেই যে ব্যবধান।

সবাই মানি শ্রষ্টাও যে এক হউক না ভিন্ন নাম

কে জানে নিশ্চিত কি যে হবে মানবের পরিনাম।

তবে এ কিষের বিবাদ, কে শেখালো তা কি জানি

কেন যে শেখালো তাই বা জানি ক’জন কতখানি

তবে কেন এই মরণখেলা চলবে আর কত কাল

এই আধার কেটে আসবে কবে স্বপ্নিল সকাল।
—————————
ঝিনাইদহ। ১১.১১.২০১৭

আবোলতাবোল ভাবনা

 

কত যে কথা বলার আছে

কত যে কাজ করার আছে।

কথায় কাজে নিত্য নিশি

যে সুর বাজে বুকের মাঝে

যে ভাবনা খেলিয়া বেড়ায়

মস্তিষ্কের গোপন কোঠায়

কেমন করে বলিব সেসব

করিব সেসব কেমন করে!

হাজারো বাধার পাহাড়

অন্তরে বাহিরে সর্বদিকে।

কি যে করি তাই ভেবে মরি

আবোলতাবোল।

—————————

ঝিনাইদহ। ১০.১১.২০১৭

অদ্ভূত সময়

 

সময়, বড়ই অদ্ভূত রহস্যময়

কখনো নির্মম কখনো মধুময়।

কি যে রহস্য লুকিয়ে থাকে

সময়ের ভাজে ভাজে

কিছুই যায়না জানা আগেভাগে!

 

কিছু স্বপ্ন, কিছু আশা

কিছু অনুমান, কিছু প্রত্যাশা

তাই নিয়েই দিবানিশি

মনের গহীনে সময়ের ক্যানভাসে

আকা স্বপ্নের আলপনা।

 

কি হবে আগামীকাল,

পরশু কিংবা তারপর

কে জানে খবর কে জানে পূর্বাপর

আমরা যে সময়ের ক্রীড়ানক

কখনো মধুর কখনো ভয়ানক

যেমনই হউক সে খেলা

সয়ে সয়েই যায় যে বেলা

সময়ের অতল গহবরে।

ঝিনাইদহ। ০৯.১১.২০১৭