Aug 8, 2025 | কবিতার খাতা
আমার আছে স্বপ্ন দেখার ব্যারাম
এই ব্যারামটা যখন মস্তিষ্কে জেঁকে বসে
তখন দেহের ব্যারাম সব উবে গিয়ে
আমি পাই পথচলার অমিত বল।
আর তখনি চারপাশরে সব সুস্থ্য(?)
বাস্তবরে মানুষেরা জুড়ে দেয় আহাজারি
বলে পাগল আমি, সব পাগলামি
পথ রুদ্ধ করে দাড়ায় সকলে
যার যার পথে করে টানাটানি
আর তখন অসহায় বিভ্রান্ত আমি
থেমে যাই, মুখ থুবরে পড়ি।
তথনই শরীর নামক মহাশয়ের
উপর দিয়ে চলা সব অত্যাচার
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় বেরিয়ে পড়ে একে একে
আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি আর থমকে দাড়াই
থেমে যায় পথচলা।
তখন গুরু ঠাকুরের “একলা চলোরে” আবাহন
অদ্ভুত আধার ঘেরা মৃত্যু উপত্যকায়
আমার বেঁচে থাকার একমাত্র প্রেরণা হয়ে
আমার পথ চলার শক্তি জোগায়
আর তখনি গুরুর উপদেশ মাথায় নিয়ে
জ্বালিয়েনিয়ে “বুকের পাজর”
আমি জ্বলি একেলা প্রাণপণ।
——————
ঝনিাইদহ;
Aug 7, 2025 | কবিতার খাতা
কেনো জন্ম আমার এই ধরাভূমে
কেনো এ জীবনের আয়োজন?
উত্তরহীন এই প্রশ্নটা অনুক্ষণ কিলবিল করে
মস্তিষ্কের অদৃশ্য কোঠর।
প্রকৃতির অকৃপন দানে
তিলে তিলে বেড়েছি আমি
সেবেছি বায়ু, রবির কর
ক্ষুধায় পেয়েছি অন্ন, তৃঞ্চায় জল
রজনীর শান্তিময় ক্রোড়ে
ক্লান্ত শ্রান্ত আমি পেয়েছি শীতল আশ্রয়।
যৌবনা তটিনীসম অবিরাম
বয়ে চলেছে সময়ের শ্রোত
অদূর ভবিষ্যতে একদিন
এ মঞ্জিলের ক্ষণিক বিশ্রাম শেষে
সুদূর অজানায় দিব পাড়ি
কিন্তু এই কি জন্মসার?
এই সবুজ ঘাসের পরে
এ দু’টি ক্লান্ত পায়ে হেটেছি কত
অথচ তার কোন পদচহ্নি
থাকবেনা কভু তাই কি হয়?
মনে সাধ এই সবুজ গালিচার পরে
আমার পদচহ্নিটুকু রেখে যেতে চাই
এই পথ এই মাঠ এই বনছায়
আমার পরে যারা করবে বিচরণ
এ ধরনীর বুকে আমার আগমণচিহ্নটুকু
তাদের তরে রেখে যেতে চাই।
কিন্তু কিভাবে? উত্তর নেই জানা
এ যে বড়ই দুরূহ, দুঃসাধ্য অতি
এর জন্য চাই জগদ্বীশ্বরের কৃপা
হে রাজাধিরাজ
পাব কি আমি কভু তোমারি বর।
——————–
বাকৃবি। ২৯/১/১৯৯৪
Aug 7, 2025 | কবিতার খাতা
বসুমতি জননী আমার
তোমার বিশাল বিস্তৃত ক্রোড়ে
ক্ষুদ্র কীটসম জন্মেছিনু আমি
তোমার কোটি সন্তান মাঝে
এক অধম সন্তান রূপে।
তোমার অপার স্নেহে
তোমার উদার স্তন্য পিয়ে
জঞ্জালসম বেড়েছিনু আমি
বিনিময়ে দিতে পারিনি কিছুই।
তোমার সে অশষে ঋণ
কিঞ্চিত শোধিব সে সাধ্যতো নেই
হে জননী আমার
আমায় ক্ষমিও তুমি
মনে রখেো এ অধম সন্তানেরে।
——————–
বাকৃবি। ১৭/১/১৯৯৪
Aug 7, 2025 | কবিতার খাতা
শান্ত হও অশান্ত মন মোর
শান্ত হও এবার
আমায় নিয়ে খেলবে কত আর
এমন নির্দয় নিষ্ঠুর খেলা।
এই জগতের খেলাঘরে
আমি যে তোমারি খেলার পুতুল হয়ে
নেমে গেলাম কত সকাল সাঝে
পুরেনি তবুও তোমারি সাধ ।
আমি যে আর সইতে নারি
বড়ই ক্লান্ত শ্রান্ত আমি আজ
হে রঙ্গরাজ
এবার আমায় দাও ছুটি।
——————–
বাকৃবি। ১৫/১/১৯৯৪
Aug 7, 2025 | কবিতার খাতা
নিদ্রা তুমি মহা মায়াময়
তুমি মানবের চিরসখা পরম হিতৈষিনী
আর কি আছে তোমার মত
এমন ইষ্টকারী মানবের
তুমি মধুর পরশে মুহুর্তেই
মুছে দাও সব ব্যথা যন্ত্রণা
লাঘব কর সকল দুঃখ-কষ্ট
এ সংসার যাতনায় অতিষ্ট মানব
তোমার কোলেতেই লভে
প্রশান্ত শীতল আশ্রয়
তুমি অতি মঙ্গলময়
তুমি জীবনভারে ক্লান্ত মানবের
দেখাও নবজীবনের স্বপ্ন
তুমি জাগাও মানব হৃদয়ে
নতুন করে বাচার আশা
তুমি মহা কল্যাণময়
তোমার কল্যাণেই এখনও মানব
এই শ্বাসরুদ্ধকর যান্ত্রিকতায়
আজও দিব্যি টিকে আছে
নিদ্রা তুমি অনন্তকাল
এ দুঃখী মানবের
অবিরাম শান্তির নীর ঢালো।
——————–
বাকৃবি। ১৩/১/১৯৯৪
Aug 5, 2025 | কবিতার খাতা
হারিয়ে গেছে সোনালি বিকেল
নিঝুম সন্ধ্যা ঢেকেছে আজ
কৃষ্ণ চাদোয়ায় জীবন আমার।
স্বপ্নীল প্রভাত হারিয়েছে সেই কবে
তারপর হারালো রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর
অবশেষে হারিয়েছে সোনালি বিকেল
আজ আমি চির আধারের সহচর।
গোধূলির আলো আধারি খেলায়
এ অবোধ আমি ছিলেম বিভোর
কখন যে নিষ্ঠুর আধার এসে
গ্রাসিলো রাহুসম আমার চারিধার।
আধারের বুকে এখন আমি
হাতরে ফিরি প্রাণপণ এতটুকু শিখা
পথহারা পথিকসম খুজি পথের দিশা।
——————
বাকৃবি। ৫/১/১৯৯৪