কেনো জন্ম আমার এই ধরাভূমে
কেনো এ জীবনের আয়োজন?
উত্তরহীন এই প্রশ্নটা অনুক্ষণ কিলবিল করে
মস্তিষ্কের অদৃশ্য কোঠর।
প্রকৃতির অকৃপন দানে
তিলে তিলে বেড়েছি আমি
সেবেছি বায়ু, রবির কর
ক্ষুধায় পেয়েছি অন্ন, তৃঞ্চায় জল
রজনীর শান্তিময় ক্রোড়ে
ক্লান্ত শ্রান্ত আমি পেয়েছি শীতল আশ্রয়।
যৌবনা তটিনীসম অবিরাম
বয়ে চলেছে সময়ের শ্রোত
অদূর ভবিষ্যতে একদিন
এ মঞ্জিলের ক্ষণিক বিশ্রাম শেষে
সুদূর অজানায় দিব পাড়ি
কিন্তু এই কি জন্মসার?
এই সবুজ ঘাসের পরে
এ দু’টি ক্লান্ত পায়ে হেটেছি কত
অথচ তার কোন পদচহ্নি
থাকবেনা কভু তাই কি হয়?
মনে সাধ এই সবুজ গালিচার পরে
আমার পদচহ্নিটুকু রেখে যেতে চাই
এই পথ এই মাঠ এই বনছায়
আমার পরে যারা করবে বিচরণ
এ ধরনীর বুকে আমার আগমণচিহ্নটুকু
তাদের তরে রেখে যেতে চাই।
কিন্তু কিভাবে? উত্তর নেই জানা
এ যে বড়ই দুরূহ, দুঃসাধ্য অতি
এর জন্য চাই জগদ্বীশ্বরের কৃপা
হে রাজাধিরাজ
পাব কি আমি কভু তোমারি বর।
——————–
বাকৃবি। ২৯/১/১৯৯৪